নৌকা বাইচকে হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না, এ নৌকা স্বাধীনতার নৌকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৩, ২০:২৩

আবহমান গ্রাম বাংলার নদ-নদীতে যুগ-যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নদী তীরবর্তী গড়গড়ি ইউনিয়নের মানুষ এ খেলাটি ধরে রেখেছেন বহুকাল থেকে। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের বিকালে নকআউট পদ্ধতিতে তিনদিনব্যাপী এ খেলাটি উপলক্ষে এখানে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে নৌকা বাইচ মেলা ও ঘোড়া দৌড়সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

এ মেলায় এবার প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রেখেছেন তিন তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলেন, বাংলার ঐতিহ্য নৌকা বাইচকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। এই নৌকা ৭১-এর নৌকা। এই নৌকা স্বাধীনতার নৌকা। একইসঙ্গে তিনি বিজয়ী এবং বিজেতাদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করেন। 

ছবি: নুরুজ্জামান

শনিবার (১৪ অক্টবর) বিকালে গড়গড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মেলায় পদ্মার কোল ঘেষে জনস্রোতে পরিণত হয়। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে যুবক-যুবতী এবং আবাল বৃদ্ধ বনিতাসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নানা বয়সের মানুষ পদ্মার দুই পাড়ে কানায় কানায় ভরে যায়। আর এত পরিমাণ লোক সমাগম দেখে আবেক-আপ্লুত হন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। 

তিনি জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ এত সুন্দর হবে জানলে আমি নিজে একটি টিম গঠন করতাম। আমি ধন্যবাদ জানায় এই নৌকা বাইচের আয়োজক কমিটির নেতাদের। আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এই নৌকা বাইচ উপলক্ষে এ অঞ্চলের হাজার-হাজার মানুষের উল্লাস ও উৎসবের আমেজ। তিনি জাতীর জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এই নৌকা ৭১-এর নৌকা। এই নৌকা স্বাধীনতার নৌকা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। এ দেশের লক্ষ-লক্ষ মানুষ নদ-নদীতে মাছ শিকার করে তাদের জীবন চালাই। এর পাশাপাশি কৃষিখাতে এখন দেশ পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। সরকার কৃষকদের নানা রকম বীজ প্রণোদনা ও আর্থিক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। এটা নিৎসন্দেহে ইতিবাচক। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে এক ইঞ্চি মাটিও যেন অনাবাদি না থাকে। তার মতে, পৃথিবীর ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন কৃষিখাতে অনেক এগিয়ে। তবে আমাদের সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেককে তার সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। কারণ উন্নত দেশ গড়তে হলে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। 

শাহরিয়ার আলম বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ এবং স্থিতিশীলতা রয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের জন্য রাজনীতি প্রযোজ্য নয়। এখন যে কোনো ইস্যুতে জামায়াত-বিএনপির কাজ হচ্ছে অপপ্রচার ছড়ানো।  আপনারা ওদের কথায় কান দেবেন না। আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছি এবং করছি। বর্তমানে অনেকগুলো মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রধানমন্ত্রীর নিজের জন্য কিছু করেন না। তার একটি চাওয়া, পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন। আপনারা আর একটিবার সুযোগ দিয়ে নৌকাকে বিজয়ী করলে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।  

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আখতার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর ইসলাম বাবুল ও গড়গড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আনিছুজ্জামান। 

ছবি: নুরুজ্জামান

উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্টু , অধ্যক্ষ নছিম উদ্দিন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনজারুল ইসলাম, বাঘা উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতা, সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহেদ সাদিক কবির, মনিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, আড়ানী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ও আওয়ামী সহযোগী সব সংগঠনের নেতাকর্মীসহ হাজার-হাজার জনতা ও সুশীল সমাজের নেতারা। 

মেলা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, নকআউট পদ্ধতিতে তিনদিনব্যাপী নৌকা বাইচ খেলায় বাছাইপূর্বক চূড়ান্ত পর্বে পাঁচটি বড় নৌকা অংশগ্রহণ করে। এতে প্রথম স্থান অধিকার করে জাতির পিতার শেখ মুজিবের  জন্মভুমি টুঙ্গিপাড়ার সোনার তরি ৭১ নৌকা। এটির পরিচালক ছিলেন চাঁদপুর গ্রামের শাহালম। তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সম্মাননা পুরুস্কার হিসাবে একটি  হোন্ডা কম্পানির ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন খুলনা থেকে আগত মযূরপঙ্খী নৌকা, এটির পরিচালক ছিলেন গড়গড়ির হুমায়ন কবির। তিনি পেয়েছেন ১১০ সিসির একটি মোটরসাইকেল এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন  সুদুর খুলনা থেকে আগত সোনালী সংঘ্য নৌকা, এটির পরিচালক ছিলেন বামনডাঙ্গা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ বুদু মিয়া। মেলায় বসেছিল হরেকরকম মিষ্টির দোকান, খেলনাঘর ও  হরেকরকম বিনোদনমূলক খেলার উপকরণ।

ইত্তেফাক/পিও