দলীয় এমপির প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগে হাইব্রিডদের দাপট, ক্ষুব্ধ সাবেক নেতারা

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৩, ২২:৪০

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বঞ্চিত হচ্ছেন দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। এমন অভিযোগ তুলেছেন খোদ দলের সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। যাদের ত্যাগ আর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তৃণমূলের রাজনীতিতে দলকে দুর্দিনে বাঁচিয়ে রেখেছে তাদের অধিকাংশই এখন উপেক্ষিত।

জানা গেছে, দলীয় কোন্দলের কারণে বাউফল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি  আ.স.ম ফিরোজ সাবেক নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে রেখেছেন।

বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭৫ পরবর্তী দুর্দিনে জীবন বাজি রেখে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তাদের বেশির ভাগই মৃত্যুবরণ করেছেন উপেক্ষা আর বঞ্চনা সহ্য করে। তাদের মধ্যে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেকসহ সভাপতি নূরুল হক মৃধা, কালিশুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মৃধা, কালিশুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মস্তফা তালুকদার, সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও দাশপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, ওই ইউনিয়নের একাধিক বার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ নুরু মোহাম্মাদ ওরফে নুরু মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ধূলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চুন্নু মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগেরসহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ইউনুচ মিয়া, বগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নবি আলী মৃধা, উপজেলা আওয়ামী লীগেরসহ সভাপতি পূর্ন চন্দ্র মজুমদার উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখিত নেতারা দলকে ক্ষমতায় দেখে যেতে পেরেছেন বটে, তবে কোনো রকম সম্মান বা প্রতিদান পাননি। সাম্প্রতিক সময় বাউফল আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন ত্যাগী নেতার মৃত্যুতে এমন চিত্র উঠে এসেছে। মৃত্যুর পূর্বে দুঃসময়ে বর্তমান দলীয় সংসদ সদস্য তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেননি।

বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, ওই সমস্ত নেতাদের আমি দল থেকে কিছুই দিতে পারিনি। স্থানীয় এমপি ফিরোজ ভাই কিছু দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টো তাদের সঙ্গে বৈরী আচরণ করতেন। এমন কি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন ফরাজির অভিযোগ, স্থানীয় এমপি আ.স.ম ফিরোজ তাকে বঞ্চিত করে হাইব্রিডদের দিয়ে দল চালাচ্ছেন। সদ্য দলে আসা কিছু নেতা বিপুল টাকার মালিক বনে গেছেন। তারাই এখন এমপির কাছের লোক, দলের শীর্ষ নেতা।

এদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিবেদিত প্রাণ বলে পরিচিত, উপজেলা  আওয়ামী লীগের একাধিকবারের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব হাওলাদারও একই অভিযোগ করেছেন।  

তিনি ইত্তেফাককে জানান, স্থানীয় এমপির দলের প্রতি একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার, কর্তৃত্ববাদী মনোভাব, দলের মধ্যে পরিবারতন্ত্র চর্চা ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার মতো অনেক ত্যাগি নেতা কর্মীকে লাঞ্ছনা; বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। হাইব্রিডের দাপটে আমার পরবর্তী প্রজন্মের কর্মীরাও দলে স্থান পাচ্ছেন না।
 
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি আ.স.ম ফিরোজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীরা যে অভিযোগ করেছেন, তা মিথ্যা।  যারা জনবিচ্ছিন্ন, অতি লোভী তারা অতি উৎসাহী হয়ে আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তাদের উচ্চ আকাঙ্খাকে আমি প্রশ্রয় দেইনি বলে।

ইত্তেফাক/পিও