শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবলকাঠামো ও নীতিমালায় অস্পষ্টতা, বিপাকে শিক্ষকরা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:০০

বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য তৈরি নীতিমালায় ‘পদ সমন্বিতকরণ’ ধারাটি ২০১০ সাল থেকেই যুক্ত ছিল। এরপর ২০১৮ সালে বিধিমালাটির সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়, সেখানেও এই ধারাটি ছিল। সর্বশেষ ২০২১ সালে আরও পরিমার্জিত ভাষায় যুক্ত করা হয়। কিন্তু ২০১০ সালের ধারা যুক্ত করার পর এখন ২০২৩ সালে এসে মনে হলো বাক্যটি স্পষ্টকরণ দরকার। আর এ লক্ষে মাঠ পর্যায়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্টীকরণের জন্য মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও নীতিমালার এই অস্পষ্টতার কারণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এমপিওপ্রত্যাশীদের এমপিওভুক্তর ফাইল আটকে পড়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা বদলি হয়ে যান। ঐ পদে নতুন কর্মকর্তা যোগদান করেন। আর ঐ কর্মকর্তার নীতিমালার ধারাগুলো বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিতে সময় পার হয়ে যাচ্ছে।  
রাজধানীর আইডিয়াল কলেজের জীববিজ্ঞানের এক শিক্ষক অবসরে যান। ফলে পদটি শূন্য হয়। এই পদে নিয়োগের জন্য সিনিয়র শিক্ষকদের নাম ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়। যাদের বিধি মেনেই কলেজে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, যে সব শিক্ষকদের তালিকা পাঠানো হয়। কিন্তু এসব শিক্ষকরাও নীতিমালার অস্পষ্টতার কারণে এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না। এমন অনেক শিক্ষক ঘুরছেন বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ে।

এছাড়া নীতিমালার আরও বেশ কয়েটি ধারার ব্যাখ্যা চেয়েছে মাউশি।

কোথায় অস্পষ্টতা: সর্বশেষ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও নীতিমালা ২০২১ সালের ২৮ মার্চ জারি করা হয়। এই নীতিমালার ৯ (৩) ধারায় বলা হয়, এমপিওভুক্ত উদ্বৃত্ত পদের শিক্ষক/কর্মচারীদের সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট শূন্যপদে বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত কিন্তু এমপিওভুক্ত নয় এমন একই বিষয়/পদে শিক্ষক/কর্মচারীগণকে প্যাটার্নভুক্ত শূন্যপদের বিপরীতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সমন্বয় করতে হবে। উদ্বৃত্ত পদের শিক্ষক/কর্মচারীদের সমন্বয় করা সম্ভব না হলে জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা মোতাবেক প্যাটার্নভুক্ত শূন্যপদে শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া যাবে এবং তারা এমপিওভুক্ত হতে পারবেন।

ঢাকার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল খালেক বলেন, ধারায় ‘বিধিমোতাবেক’ বলা আছে। উক্ত শিক্ষক বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, তার নিয়োগের সময় ঐ পদ শূন্য ছিল না। তাই বিধিমোতাবেক না হওয়ায় আইডিয়ালের ঐ শিক্ষককে এমপিওভুক্ত দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, বিষয়টি স্পষ্টকরণের জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

অন্যদিকে নীতিমালার সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা বলেছেন, নীতিমালায় কোন অস্পষ্টতা নেই। দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়।

একাধিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিধিমোতাবেক বলতে বোঝানো হয় নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য সরকারি বিধিবিধান। যেমন পত্রিকায় সার্কুলার, পরীক্ষায় তিন জনের বেশি অংশগ্রহণ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি। ফলে এই ধারায় কোনো সমস্যা নেই।

রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে অস্পষ্ট মনে হয়নি। ফলে বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্তদের এমপিওভুক্তিতে কোনো সমস্যা নেই বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

ঢাকার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল খালেক গতকাল এই প্রতিবেদকে বলেন,স্পষ্টীকরণের সিদ্ধান্ত এখনো পাইনি। এছাড়া এই ধারার আলোকে মাউশিতে কোনো ফাইল পাঠালে তা অনুমোদন হচ্ছে না।

এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক অধ্যাপক বেলাল হোসাইন বলেন, ২০২১ সালের বিধিমালায় ঐ ধারাটির স্পষ্টীকরণ চাওয়া হয়েছে। আগের ২০১০ বা ২০১৮ এর বিধিমালায় এ ধারাটি থাকলেও হয়তো বিষয়টি এভাবে প্রয়োজন হয়নি। বর্তমান বাস্তবতার আলোকে প্রয়োজন মনে হয়েছে। এছাড়া এখন অনলাইনে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে, যেটা আগে ছিল না। 

ইত্তেফাক/এমএএম