জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অফিসে ডেকে এবং বিকাশের মাধ্যমে ঘুষ নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের টাকা না পেলে আটকে থাকে ফাইল, হতে হয় হয়রানির শিকার।
জানা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগ ও এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অনলাইনে এমপিও ফাইল অগ্রায়ন করতে ও সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়। টাকা চাওয়ার একাধিক প্রমাণও দেয় শিক্ষক, কর্মচারীরা।
একটি অডিও রেকর্ডে শফিকুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, একটি ফাইল পাঠাতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক ওয়েব সাইটে ক্লিক করতে হয়। বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দিবেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এনটিআরসিএ থেকে ৩১ জন শিক্ষক এই উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
এদিকে, ৯ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ওএম/৭৪ /ম/ ১৪-৩১২৩ নম্বর স্মারকে এনটিআরসিএ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধে একটি পত্র জারি করা হয়। বলা হয়, উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনে এমপিও সংশ্লিষ্ট আবেদন অগ্রায়ণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য বিধি বিধানের আলোকে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও সুপারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, শফিকুল ইসলাম ৫ মে আক্কেলপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেয়। এ পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসা মিলে ৮ থেকে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া নিয়োগ হয়েছে। এসব নিয়োগে সে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক জানায়, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সব নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে ঘুষ নিচ্ছে। কর্মকর্তা হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাকে ঘুষের টাকা দিতে হয়।
আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মোমিন জানায়, এনটিআরসিএর চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তির সুপারিশে আমার প্রতিষ্ঠানে ৩ জন শিক্ষক যোগদান করে। তারা অনলাইনে এমপিও আবেদন করে। সে (শফিকুল ইসলাম) নিজ অফিসে আমাকে ডেকে নিয়ে তিন জনের ফাইল অনলাইনে পাঠাতে ৬ হাজার টাকা দাবি করে।
উপজেলার আরকেএম দাখিল মাদ্রাসার সুপার গোলাম আযম জানায়, সম্প্রতি আমার প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মচারী নিয়োগ হয়েছে। সেই নিয়োগে সে (শফিকুল ইসলাম) টাকা নিয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীর অনলাইনে এমপিও আবেদন ফাইল পাঠানোর জন্য ফোনে ৫ হাজার টাকা দাবি করে এবং সেই টাকা বিকাশে দিতে বলে। প্রার্থী নতুন চাকরি হওয়ায় ভয়ে তাকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করে বলে, অনলাইনে এমপিও ফাইল পাঠাতে অফিস চলাকালে বাইরেও অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এটি এক প্রকার পারিশ্রমিক হিসেবে নিয়ে থাকি। তবে কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে আমি কোনো টাকা নিইনি। আমি নিয়োগের সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠানে গেলে তারা আমাকে কিছু সম্মানী দেয়, যা ঘুষ নয়।
সরকার থেকে আপনি বেতন ভাতা পান কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়, বেতন ভাতা ছাড়াও আমাকে পরিশ্রম করে কাজ করতে হয়, তাই আমি সম্মানী নিই।
জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার শিশির কুমার উপাধ্যায় বলেন, আক্কেলপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলামের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এমপিও ফাইল পাঠানো তার কাজের মধ্যে পড়ে। সেখানে কোনো অর্থ লেনদেন করার সুযোগ নেই।

