বগুড়ায় গৃহায়ন তহবিলের ঋণকে গতিশীল করতে মতবিনিময় সভা

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ২২:৩৯

গৃহায়ন তহবিলের ঋণ কার্যক্রমকে গতিশীল, সম্প্রসারণ, ঋণ ছাড়করণ, ছাড়কৃত ঋণ আদায়সহ ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও তা সমাধান বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বগুড়ায় টিএমএসএস কন্সফারেন্স হলে এ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও গৃহায়ন তহবিল ষ্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সচিব মো.জাকের হোসেন।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও গৃহায়ন তহবিলের ফান্ড ম্যানেজার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. অধ্যাপিকা হোসেনে আরা বেগম, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক আরিফুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক আব্দুল মোমিন।
 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. অধ্যাপিকা হোসনে আরা বলেন, গৃহায়ন তহবিলের ঋণ নিয়ে আমরা যারা এনজিওগুলো কাজ করছি তাতে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরা গৃহ ঋণ দিচ্ছি কিন্তু কর্মের ব্যবস্থা করছি না। তাদের কর্মের ব্যবস্থা না করলে তারা ঋণ পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়ছে। সেজন্য গৃহ র্নিমাণের পাশাপাশি ইনকাম করার মূলধন দেওয়া যেতে পারে। 

তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দাবি জানান, এনজিওদের কাছ থেকে যে দেড় পার্সেন্ট ইন্টারেষ্ট নেওয়া হচ্ছে তা যেন শতকরা দশমিক পাঁচ বাগ করা হয়। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো.জাকের হোসেন বলেন, ‘গৃহায়ন তহবিল’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত একটি প্রকল্প। এ জন্য সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সমাজের দরিদ্র অসহায় জনগোষ্ঠী, নদী ভাঙনের শিকার জনগণ ও স্বামী পরিত্যক্তা বা বিধবা নারীদের জন্য বাসস্থান ও কর্মসস্থানের সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকেই প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে ‘গৃহায়ন তহবিল’ প্রতিষ্ঠা করেন। গতানুগতিক ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় ঋণের বিপরীতে যে জামানত প্রদান করতে হয়, তা প্রদানের কোনো সক্ষমতা দরিদ্র অসহায় জনগোষ্ঠীর নেই। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী গৃহায়ন তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন। গৃহায়ন তহবিলের ঋণের আদায় হার প্রায় ৯৫ শতাংশ। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সার্বিক ঋণ ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় জামানত বিহীন ঋণের আদায় পরিস্থতি অবশ্যই সন্তোষজনক। 

তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে গৃহায়ন তহবিল ১৬০ কোটি টাকা পেয়েছে। এক লাখ ৬ হাজারের বেশি গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাজের গতি বাড়াতে হবে। মাঠে রয়েছে ৩’শ কোটি টাকা এবং ব্যাংকে রয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। আমরা যেন গরীব মানুষদের বেশি করে ঘর দিতে পারি সেই কাজ করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, আগে প্রতিটি ঘর নির্মন করতে ঋণ দেওয়ার লিমিট ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, এখন এটা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ টাকা করা হয়েছে। 

মতবিনিময় সভায় উম্মুক্ত আলোচনায় যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তার ঢাকায় গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আয়োজকরা জানান, মতবিনিময় সভায় বগুড়া, গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলার ৪১টি এনজিও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

ইত্তেফাক/পিও