বিশ্বকাপেই কী শচীনকে ছুঁয়ে ফেলবেন বিরাট

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৩, ১৫:৪৫

মাস্টার ব্লাস্টার ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। ভারতীয় ক্রিকেটেই শুধু নয়, ক্রিকেট দুনিয়ায় শচীন যেন সবার কাছে বিশেষ কিছু। ক্রিকেট দুনিয়া যে কজন ব্যক্তি রয়েছেন তাদের অন্যতম শচীন। শ্রদ্ধার আসনে বসে আছেন। তার কোনো রেকর্ড ভেঙে ফেলা কিংবা তাকে ছাপিয়ে যাওয়ার কোনো রেকর্ড করতে পারা সেটা কোনো ক্রিকেটারের জন্য সেরা প্রাপ্তি। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের লড়াইয়ে বিরাট কোহলি সেঞ্চুরি করেছেন। 

বৃহস্পতিবার ভারতের পুনেতে হওয়া ম্যাচে ৭ উইকেটে ভারত হারিয়েছে বাংলাদেশকে।  ৫১ বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতল। বিরাট কোহলি যখন ৯৭ রানে অপরাজিত, ভারতের জয়ের জন্য দরকার মাত্র ২ রান। ম্যাচ তো ভারতের পক্ষে চলে গেছে অনেক আগেই। পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা, কোহলি কি পারবেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৮তম সেঞ্চুরি করতে? বিরাট করেছেন, তা-ও আবার ছক্কা মেরে। আর তাতে কি হলো , বিশ্বকাপ ক্রিকেটে শতরানের খরা কাটল বিরাট কোহলির। বিরাটের সেঞ্চুরিতে আলোচনায় উঠে আসল শচীন টেন্ডুলকারের নামটি। 

ওয়ানডেতে টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি ৪৯টি। টেন্ডুলকারকে ছুঁয়ে ফেলতে বিরাটের দরকার আর মাত্র একটি সেঞ্চুরি। আর যদি শচীনকে ছাড়িয়ে যেতে হয় তাহলে বিরাটের দরকার আরও দুটি সেঞ্চুরি। একটি সেঞ্চুরির হিসাবটা যদি নিয়ে বসা যায় তাহলে দেখা যায় ভারতের হাতে আরো ৫ ম্যাচ। নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডস। উড়ন্ত ভারত। টাগের্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সামনে আরও যে ৫টি ম্যাচ আছে সেগুলো খেলবেন বিরাট, যদি মারাত্মক কোনো চোটে দল থেকে ছিটকে না পড়েন। বিরাটের সামনে এক দিকে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করানোর টার্গেট, অন্য দিকে নিজের ব্যাটে রানের ফুলকি ঝরাতে হবে।

২০১১ সালে বাংলাদেশ-ভারত-শ্রীলঙ্কা, তিন দেশ মিলে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজন করেছিল। সেবার বিরাট কোহলি প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামে, অভিষেক হয় বিরাটের। ঢাকায় মিরপুরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন বিরাট কোহলি, ওটাই ছিল তার ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি। বিরাট ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে শেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন। ২০১৯ সালে বিরাট একাধিক হাফ সেঞ্চুরি করলেও সেঞ্চুরি উপহার দিতে পারেননি। এবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশকে জেতালেন এবং নিজে সেঞ্চুরি করলেন।

শচীনকে ছাড়িয়ে যেতে বিরাটের সাফল্যের ঘরে রয়েছে আরও কিছু মালা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরাট কোহলি সব থেকে কম ইনিংসে ২৬ হাজার রান পূরণ করলেন। এই কৃতিত্ব তিনি ৫৬৭ ইনিংসে স্পর্শ করেছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে শচীনের একটি রেকর্ডও ভেঙেছেন বিরাট। শচীন ৬০০ ইনিংসে ২৬ হাজার রান পূরণ করেছিলেন। শচীনের রেকর্ড নিয়ে ভাবছেন না বিরাট। তার সামনে প্রচুর সুযোগ। মুখে না বললেও অনুমেয়, নিজেকে শচীনের ওপরে দেখাতে চান বিরাট। সেটা যে চাইবেন তা সহজেই বলা যায়। 

শচীন খেলা ছেড়েছেন অনেক আগে। আর বিরাট এখনও দেদীপ্যমান। আলো ছড়াচ্ছেন। দলকে কীভাবে জয়ের বন্দরে বন্দরে ভেড়াবেন, সেই স্বপ্ন আঁকছেন। একটা সেঞ্চুরি হলে শচীনের পাশের চেয়ারে বসবেন, দুটো সেঞ্চুরি হলে শচীনকে ছাড়িয়ে যাবেন বিরাট। শচীন যেবার ভারতের মাটিতেই বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন, সেই দলে ছিলেন বিরাট কোহলি। এখন অধিনায়ক না হলেও অধিনায়ক রোহিম শর্মার পাশে নেতৃত্বের ভার বিরাটেরও আছে। ট্রফিটা যদি জেতা যায়, সঙ্গে আরও দুটি সেঞ্চুরি করা যায়—তাহলে তাহলে শচীনকে ছাড়িয়ে যাবেন কিংবদন্তি বিরাট কোহলি। বিশ্বকাপেই কি শচীনকে ছুঁয়ে ফেলতে পারবেন বিরাট। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ