আইভী-শামীম দ্বন্দ্ব, দুঃসময়েও মিটছে না অনৈক্য

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৩, ২০:১৭

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের বিভক্তি এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় নেতারা দলের এ দুঃসময়ে অনৈক্য দূর করতে চাইলেও তা আর হয়ে উঠছে না। নেতাদের কারণে কর্মীদের মধ্যেও বিভক্তি লক্ষ করা গেছে। 

শনিবার (২১ অক্টোবর) মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে বিভক্তি বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। তাদের দাবি, তাদের নেতারা যেখানে রয়েছে তারাও তাদের সঙ্গে রয়েছে। তারা তার পছন্দের নেতার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করতে চান। যেহেতু আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আওয়ামী লীগের জনসমাবেশ সফল করতে গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে আসেন সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। ছবি ও কোলাজ: ইত্তেফাক

এ জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয় নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজে। সেখানে জেলা, মহানগরের নেতাদের সঙ্গে সভা করেন মির্জা আজম। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে দেখা গেলেও যাননি সভাপতি আনোয়ার হোসেন। যদিও শুরু থেকেই আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহার মধ্যে মতপ্রার্থক্য বিদ্ধমান। বতর্মান পরিস্থিতিতে একদিকে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ঢামাঢোল অন্যদিকে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বিএনপিসহ সমমনাদলগুলোর আন্দোলন সেই সময়ে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন গড়তে বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হয়ে ছুটে আসেন মির্জা আজম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই বর্ধিত সভায় শেষ পর্যন্ত যোগ দেননি আনোয়ার হোসেন। 

আর দলের মধ্যে বিভক্তিতে বিপাকে রয়েছে তৃণমূল কর্মীরা। এ নিয়ে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা হলেও, বিভক্তির কারণে দলের চূড়ান্ত প্রয়োজনে শীর্ষনেতাদের মধ্যে অনৈক্য কর্মীদের মনোবল দুর্বল করে দিবে। যার প্রভাব পড়বে বিরোধীদের আন্দোলন মোকাবেলায়। তাছাড়া কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজমও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিভক্তি দেখে গেলেন। 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা। ছবি: সংগৃহীত

দলীয় সূত্র মতে, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে ঘিরে দুইভাগে বিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগ। তারা দুইজন স্থানীয় রাজনীতিতে দুই বলয় ধারণ করে চলছেন। এর মধ্যে সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বলয়ে ও খোকন সাহা ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমানের বলয়ে রাজনীতি করেন। ফলে মেয়র সভায় না যাওয়াতে আনোয়ার হোসেনও যাননি। এমনটা মনে করছেন বর্ধিত সভায় উপস্থিত একাধিক নেতারা। 

সূত্র মতে, মহানগর আওয়ামী লীগে ২০ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আনোয়ার হোসেন আর ২৭ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। 

সর্বশেষ সম্মেলন ছাড়াই ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। এর দুই বছর পর ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়েও তারা মহানগরের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডের সবগুলোতে কমিটি গঠন করতে পারেননি। মূলত নিজেদের মধ্যে কোন্দল ও বিভেদের কারণেই দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ওয়ার্ড কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডে দলের সাংগঠনিক অবস্থা হ-য-ব-র-ল।

ইত্তেফাক/পিও