অর্ধশত গাছ কেটে গোপনে বিক্রির অভিযোগ জামায়াত ও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১৫:৪৫

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির প্রায় অর্ধশত গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। গাছগুলো কেটে ওই ইউনিয়নের তিনতলা হাট ঈদগাহ মাঠে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।একইসঙ্গে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে গাছগুলো গোপনে বিক্রি করার পাঁয়তারা করছেন তারা। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক গাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গাছের দরদাম ঠিক করে অগ্রিম ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করার তথ্য পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাফায়াত ও আওয়ামী লীগ নেতা বিপ্লব বায়নার টাকা নেওয়ার বিষয়টি কাঠ ব্যবসায়ী তুষার নিশ্চিত করেছেন। 

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের তিনতালারহাট থেকে লতিবপুর গ্রামের সঙ্গে সংযুক্ত দুইটি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। সেই রাস্তার দু'ধারে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচীর আওতায় লাগানো সারি সারি ইউক্লিপটাস গাছ রয়েছে। সম্প্রতি ঝড়ে সেখানকার ৪-৫ টি গাছ উপড়ে পড়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছগুলো সরিয়ে নেওয়ার অযুহাতে আরও প্রায় ৫০টি গাছ কাটা হয়। রাস্তার পাশে থাকা মোটা মোটা গাছগুলোই কাটা হয়েছে। কিন্তু সামাজিক বনায়ন থেকে কোন অনুমতি বা টেন্ডার হয়নি। এমনকি গাছগুলো রোপনকরা সমিতির নাম বা কোন সদস্যের সঠিক নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় জনসাধারণের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে দিবালোকে রাস্তার গাছ কাটা হলেও দুই নেতার দাপটে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

লতিবপুর ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য বলেন, আমি গাছগুলো কাটার বিষয়ে জানতে পেরে তাদের অনুমতির বিষয়ে বলেছিলাম।  কিন্তু তারা গুরুত্ব দেয়নি। ওরা বলছে গাছ যারা লাগিয়েছে তারাই কাটবে। আমি তাদের বলেছি গাছ যেই রোপন করুক জমি তো সরকারি। কিন্তু ওরা বোঝেনি।

শুকুরেরহাট এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী তুষার মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সাফায়াত ও বিপ্লবের সাথে দরদাম ঠিক করে ১০ হাজার টাকা বায়না দেওয়া হয়েছে। মাপার পর বাকী টাকা দিয়ে গাছ নিয়ে আসা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত লতিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাফায়েত আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কয়েক ঘন্টা পর মোবাইল ফোন রিসিভ হলে তিনি ঝড়ে পড়া গাছ কাটা হয়েছে বলে দাবি করেন। অন্যান্য গাছ কর্তন ও গাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান। 

এদিকে আওয়ামীলীগ নেতা বিপ্লব মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে লতিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রাস্তার গাছ কাটতে হলে নিয়মনীতি মেনেই কাটতে হবে। জামায়াতের পরিচয়ে কেউ অন্যায় করার সুযোগ নেই। 

মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশিক জামান বলেন, সরকারী জমিতে লাগানো গাছ কর্তন করার কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ কর্তন করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এনটিএম