নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের বিভক্তি এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় নেতারা দলের মধ্যে থাকা অনৈক্য দূর করতে চাইলেও তা হয়ে উঠছে না। যার কারণে কর্মীরাও তাদের বলয়ের নেতাদের কারণে কর্মীদের মধ্যেও বিভক্তি লক্ষ করা গেছে। গতকাল মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে বিভক্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি—তাদের নেতারা যেখানে রয়েছেন তারাও তাদের সঙ্গে।
গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের অনুপস্থিতি নিয়ে খোদ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা। সেই বর্ধিত সভায় মেয়র আইভী ও আনোয়ার হোসেনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা অনুপস্থিত ছিলেন বলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা জানান। তাদের উভয়ের ভাষ্য, আনোয়ার হোসেন ও সেলিনা হায়াত্ আইভীকে যথাসময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এমনকি তাদের অনুষ্ঠানে আসার জন্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠালেও সেলিনা হায়াত্ আইভী অনুষ্ঠানে আসেননি কিংবা বার্তার জবাব দেননি। এ ব্যাপারে সেলিনা হায়াত্ আইভী ও আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
দলীয় সূত্রমতে, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে ঘিরে দুই ভাগে বিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগ। তারা দুই জন স্থানীয় রাজনীতিতে দুই বলয় ধারণ করে চলছেন। এরমধ্যে সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভীর বলয়ে ও খোকন সাহা ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বলয়ে রাজনীতি করেন। ফলে মেয়র সভায় না যাওয়াতে আনোয়ার হোসেনও যাননি। এমনটা মনে করছেন বর্ধিত সভায় উপস্থিত একাধিক নেতৃবৃন্দ। সূত্রমতে, মহানগর আওয়ামী লীগে ২০ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আনোয়ার হোসেন আর ২৭ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট খোকন সাহা।
সর্বশেষ সম্মেলন ছাড়াই ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। এর দুই বছর পর ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়েও তারা মহানগরের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডের সবগুলোতে কমিটি গঠন করতে পারেননি। মূলত নিজেদের মধ্যে কোন্দল ও বিভেদের কারণেই দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ওয়ার্ড কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে দলের বর্ধিত সভায় গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে অনেকেই হতাশ।
