বাংলাদেশের পরিচিত পাখিগুলোর মধ্যে ডাহুক অন্যতম। জলাশয়ের পার্শ্ববর্তী স্থানে এদের দেখা মেলে। ডোবা-নালা, জলভরা ধানখেত, বিল-ঝিল, হাওর-বাঁওড়ের পাড়, পুকুর-দিঘি, খাল, নদীর পাড়ে মাটি খুঁড়ে কিংবা ছোট ডালে এরা বসবাস করে।
ডাহুক কেবল প্রজনন মৌসুম অর্থাত্ বর্ষাকালে প্রচণ্ড স্বরে ডাকতে থাকে। ভোররাত, দুপুর, শেষ গোধূলি ও গভীর রাতে এরা বেশি ডাকে। এদের ডাক অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছায়। এই পাখির ডানা ও লেজের উপরিভাগ কালচে আর মুখমণ্ডল, গলা, বুক ও পেটের দিকটা সম্পূর্ণ সাদা। লেজের নিচটা লাল খয়েরি। ঠোঁট হলুদ। পা হলুদাভ লালচে-সবুজ। প্রতি মৌসুমে পাঁচ থেকে সাতটি ডিম দেয়। হালকা হলুদ রঙের এসব ডিম কবুতরের ডিমের মতো। ডিম থেকে বাচ্চা হতে ২০ থেকে ২৫ দিন লাগে। বাচ্চার বয়স তিন মাস হলেই সে আলাদা জীবন বেছে নেয়। প্রজননের সময় একটি পুরুষ ডাহুক অন্য একটি পুরুষ ডাহুককে সহ্য করতে পারে না।
জলজ পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ খেয়েই ডাহুক জীবন ধারণ করে। এছাড়া শাপলা-পদ্ম ফুলের নরম অংশ, কচি পানিফল, জলজ শেওলা, লতাগুল্মের নরম অংশ, ধান, কাউন, ডাল, শামুক, কেঁচো, জোঁক, ছোট মাছ, শাকসবজি, ফল খেয়ে থাকে। জলবায়ুর ক্রমাগত পরিবর্তন ও জলাভূমি ভরাটের ফলে প্রকৃতিতে ডাহুকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। একে টিকিয়ে রাখতে হলে নির্বিচারে বন ধ্বংস বন্ধ করতে হবে।
