দেশের ফুটবলে উদাহরণ হয়ে থাকলো

জরিমানা আদায় করেও খেলতে নেয়নি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ১২:০৯

মদকাণ্ডে অভিযুক্ত বসুন্ধরা কিংসের পাঁচ ফুটবলার যা করেছেন তা অমার্জনীয়। পাঁচ ফুটবলারকে শাস্তি দিয়েছে। সেটিও পুরোনো কথা। নতুন কথা হচ্ছে, অভিযুক্ত শেখ মোরসালিন এবং রিমন হোসেন জরিমানা দিয়ে ক্লাবে ঢুকেছেন। তারা ক্লাবের কাছে ক্ষমা চেয়ে রুমে ঢোকার চাবি পেয়েছেন। গতকাল বসুন্ধরা কিংস এএফসি কাপে খেলতে ভারতে গেলেও শেখ মোরসালিন ও রিমন হোসেনকে দলের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। তারা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। 

গত ২০ সেপ্টেম্বর, মালদ্বীপে এএফসি কাপের ম্যাচ খেলে হেরে ঢাকায় ফেরার পর বিমানবন্দরে পাঁচ ফুটবলারের কাছে ৬৬ মদের বোতল পাওয়া যায়। প্রথমে এপিবিএন পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তারা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করে বলে জানান বসুন্ধরা কিংসের কর্মকর্তারা। গোলরক্ষক জিকোর কাছে আট বোতল, তপু বর্মনের কাছে তিন বোতল, সবুজের কাছে ১০ বোতল, শেখ মোরসালিনের কাছে ১০ বোতল, রিমন হোসেনের কাছে ১০ বোতল, স্টাফ বলবয় আলমের কাছে ১৩ বোতল এবং কাইউমের কাছে ১০ বোতল পাওয়া যায়। ক্লাব সূত্রে জানা যায়, ছিল শতাধিক বোতল, এপিবিএন পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পরই দ্রুত বোতল সরিয়ে ফেলে। সেগুলো সরিয়ে ফেলেছিল অভিযুক্ত প্লেয়ারারা। সঙ্গে সঙ্গে বসুন্ধরা কিংস পাঁচ ফুটবলারের বিপক্ষে ব্যবস্থা নেয়।

তদন্ত করে শাস্তির ব্যবস্থাও করে। সংখ্যায় বেশি মদ এনেও কম শাস্তি পেয়ে খেলায় নেমে গেছেন শেখ মোরসালিন এবং রিমন। সতের-আঠারো বছরের তরুণ ফুটবলার শেখ মোরসালিনের কাছে ১০ বোতল মদ পাওয়া গিয়েছিল। জরিমানা হয় ১ লাখ টাকা, রিমনের কাছেও ১০ বোতল পাওয়া যায়, তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মদের বোতল সংখ্যায় বেশি হলেও শাস্তি কম কেন ? এমন প্রশ্নে কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, তাদের তদন্ত কমিটি সবার অপরাধ যাচাই বাছাই করে দেখেছে। সেখানে একটা সুপারিশ ছিল। আমরা ভেবে দেখেছি সিনিয়রদের ভূমিকা কী ছিল। এখানে সিনিয়রদের ভূমিকা আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। তারা ছোটদের দেখে রাখবে, তারাই যদি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অন্যকে এগিয়ে দেয় তাহলে সেটিই-বা কীভাবে তদন্ত কমিটি এড়িয়ে যাবে। সেই হিসাব করেই সবার অপরাধ আমলে নেওয়া হয়েছে, শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত হাত নেই। এটা তদন্ত কমিটি করেছে।’ ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, জরিমানার টাকা দিয়েই তারা ক্লাবে ঢুকেছেন।

পাঁচ ফুটবলারকে শাস্তি দেওয়ার মতো বড় সাহস দেখিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। দিনের পর দিন কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অন্যায় করে যাবে ফুটবলাররা, সেটি মেনে নিতে রাজি না তারা। কিংস কর্তৃপক্ষ এমন এক সময়ে পাঁচ ফুটবলারকে শাস্তি দিল, যখন তাদের এএফসি কাপের গুরুত্বপূর্ণ খেলা চলছিল। গোলরক্ষক জিকো, ডিফেন্ডার তপুকে একাদশে খেলতে হয়। তাদের বাদ দিয়ে দল নামানো যায় না।  তাদেরকে বাইরে রেখে দিল। কিংস এই দুই ফুটবলারকে যোগ্যতার বেশি পারিশ্রমিক দিয়েছে যেন তারা মানসিকভাবে প্রশান্তিতে থাকেন। পরিবার নিয়ে ভাবতে না হয়। সংকটে না ভোগেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষের উদারতাকে এভাবে ঘৃণকাজে ব্যবহার করবে তা অনুমেয় ছিল না। কিংস যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা দেশের অন্য ক্লাবগুলোর কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে। শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দেশের কোনো ক্লাব এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখায়নি আগে।   

ইত্তেফাক/জেডএইচ