হামীম রায়হান
বন্ধু সরওয়ারের কানের পাশের চুলগুলো আরো সাদা দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে বয়স চল্লিশ। ত্রিশ বছরেই যদি চল্লিশ দেখায় তাহলে আর কী! এ নিয়ে সে পড়েছে মহাবিপদে! এদিকে বাসায় মেয়ে দেখছে জোরেশোরে।
বন্ধের দিন শাপলা দা’র সেলুনে চুল কাটাচ্ছিলাম। সারওয়ারও এসে উপস্থিত। চুলে কলপ করবে। বললাম, ‘মেয়ে দেখার খবর কী?’ ‘আরে বলিস না, গত সপ্তাহে মেয়ে দেখতে গিয়ে হলো এক কাণ্ড। একসাথে তিনটা মেয়ে দেখার টাইম ঠিক করল ঘটক। তিনজনেরই ছবি দেখে পছন্দ হলো। প্রথমজনকে দেখতে গেলাম একটা দোকানে। মেয়েটি ছবির মতোই সুন্দর। কিন্তু হাসতে গিয়েই বাঁধল বিপত্তি। দাঁতগুলো সব তরমুজের বিচির মতো লাল! এক হাজার টাকা ও নাস্তার বিল দিয়ে কোনো রকমে সেখান থেকে পালিয়ে এলাম। তারপর গেলাম দ্বিতীয় নারী দেখতে। আমরা গিয়ে আরেকটা দোকানে অপেক্ষা করছি। এমন সময় এক মহিলা এসে প্রবেশ করেন। মেয়েটিকে পাত্রীর খালা ভেবে উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিই। মনে মনে ভাবছি পায়ে ধরে সালাম করব। তখন ঘটক জিজ্ঞেস করে, ‘কেমন লাগল মেয়ে?’ আমি বললাম, ‘মেয়ে না দেখে কিভাবে বলব!’ ‘আরে একটু আগে যে ঢুকল সেই তো পাত্রী।’ শুনে তো মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল! মেয়ে আমার চেয়ে কমপক্ষে দশ বছরের বড়। সেখানেও দু হাজার টাকার মতো খরচ করে বেরিয়ে এলাম। তৃতীয় মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা বলতেই বিয়ে এ বছর করব না বলে চলে এলাম। বল, এভাবে কী বিয়ে করা সম্ভব!’
কথা শুনে সেলুনে উপস্থিত সবাই হোঃ হোঃ করে হেসে ওঠে। হাসির টাল সামলাতে না পেরে শাপলা দা একজনের গালে কেটে দেন শেভ করানোর সময়! এক রক্তারক্তি কারবার!
