একরামপুর খেয়াঘাটে বিপাকে ট্রলার চালকরা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ১৩:৩৮

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের একরামপুর ৫ নং খেয়াঘাটে বিআইডব্লিউটিএ ও ইজারাদারের টোল আদায়ের নতুন সিদ্ধান্তে বিপাকে খেয়াঘাটের ট্রলার চালকরা।

ইজারাদারের নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে যাত্রী সংকটে ভুগছেন ট্রলার তারা। তাদের অভিযোগ, অন্য সব খেয়াঘাটে যেভাবে ট্রলারগুলো চলাচল করছে একরামপুর ৫ নং খেয়াঘাটে তার উল্টো চিত্র। তবে ইজারাদারের প্রতিনিধির দাবি তারা সরকারি নিয়ম-কানুন মেনেই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টোল আদায় করছেন। এতে সাধারণ যাত্রীরা বিশেষ করে গার্মেন্ট শ্রমিকরা উপকৃত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ বন্দরের একরামপুর ৫ নং খেয়াঘাটে ইজারাদারের টোল আদায়ের স্থানের পাশে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের একটি বিজ্ঞপ্তি সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে বন্দর এলাকায় যাত্রী পারাপারে জন্য যাত্রী প্রতি প্রবেশ ফি প্রতিবারের জন্য দুই টাকা ও যন্ত্রচালিত বা অযন্ত্রচালিত নৌকা পারাপারে প্রতি যাত্রী প্রতিবার দুই টাকা পরিশোধযোগ্য যা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত। আদেশক্রমে বিআইডব্লিউটিএ।

এদিকে ওই বিজ্ঞপ্তি সাঁটানোর পর থেকে ৫ নং খেয়াঘাটের ইজারাদাররা নিজেদের দুটি ট্রলার নামায়। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ট্রলারে জনপ্রতি নদী পারাপারের জন্য দুই টাকা নিচ্ছে। এই ট্রলারের যাত্রীদের আবার খেয়াঘাটে দুই টাকা টোল দিতে হচ্ছে। তবে খেয়াঘাটে নতুন দুটি ট্রলার চালুর কারণে বিপাকে পড়েছেন পূর্বতন ট্রলার চালকরা।

‘আগে এই খেয়াঘাটে ইজারাদারের ট্রলারে কোনো টাকা নিতো না। অন্যসব খেয়াঘাটে ট্রলার বা নৌকায় পারাপারে ঘাটে কোনো টাকা দিতে হয় না। কিন্তু এখন ঘাট কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, তাদের ঘাটে ট্রলার বা নৌকা ভেড়ালে ওইসব যাত্রীকেও ঘাটে ২ টাকা দিতে হবে’

খেয়াঘাটের ট্রলার চালকদের অভিযোগ, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। তার ওপরে জ্বালানী তেলের মূল্যও অনেক বেড়েছে। আগে এই খেয়াঘাটে ইজারাদারের ট্রলারে কোনো টাকা নিতো না। অন্যসব খেয়াঘাটে ট্রলার বা নৌকায় পারাপারে ঘাটে কোনো টাকা দিতে হয় না। কিন্তু এখন ঘাট কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, তাদের ঘাটে ট্রলার বা নৌকা ভেড়ালে ওইসব যাত্রীকেও ঘাটে ২ টাকা দিতে হবে। যে কারণে যাত্রীরা ৫ টাকা দিয়ে আমাদের ট্রলারে পারাপার হলে তাদেরকেও আরও ২ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। বাড়তি খরচ হওয়ায় যাত্রীরা এখন ইজারাদারের ট্রলারেই পারাপার হচ্ছে। মাঝিদের ট্রলারে উঠছে না। আমাদের দাবি বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে যেভাবে ট্রলার বা নৌকার যাত্রীদের কাছ থেকে ঘাটে টাকা নেওয়া হয় না তেমনই ৫ নং খেয়াঘাটেও ট্রলার ও নৌকা যাত্রীদের কাছ থেকে যাতে ইজারা নেওয়া না হয়।

তবে এ বিষয়ে ইজারাদারের প্রতিনিধি মিলন বলেন, ‘অন্য ট্রলারে নদী পারাপার হতে ৫ টাকা নেয়। ঘাটে টোল ২ টাকা। একজন যাত্রীর ৭ টাকা লাগে। এই ঘাট দিয়ে অনেক গার্মেন্টস শ্রমিক পারাপার হয়। তাদের কথা চিন্তুা করে নাসিকের ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশাও মাঝি সমিতিকে খেয়া পারাপারে ২ টাকা করে নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাঝি সমিতি সেই অনুরোধ রাখেনি। আমরাও ট্রলার চালকদের অনুরোধ করেছিলাম তারা ২-৩ টাকা নিক। কিন্তু তারা সেটাও শোনেনি। ঘাটের নতুন ইজারাদার ঘাটটি জমানোর জন্য প্রথম কয়েক মাস ট্রলারে কোন অর্থ নেয়নি। বর্তমানে আমরা নিচ্ছি ট্রলার প্রতি ২ টাকা ও ঘাটে ২ টাকা নিচ্ছি। আমাদের ট্রলারের মাধ্যমে একজন যাত্রীর আসা যাওয়ায় অন্তত ৬ টাকা সেভ হচ্ছে। আমরা এই অর্থ নিচ্ছি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। আমরা কোনো বেআইনিভাবে টাকা নিচ্ছি না।’

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এই খেয়াঘাটে ট্রলারে নদী পারাপারে ৫ টাকা করে নেওয়া হতো। আমরা যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রলারে নদী পারাপারে ২ টাকা আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছি।’

ইত্তেফাক/এইচএ