বেশি টাকা

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ২০:৪০

 

সোহেল রানা

 

কুলসুম বেগম দুইশ টাকা দিয়ে বাজারে পাঠালেন ছেলে আবুলকে। সে ছিল খুব সহজ-সরল ও ক্রিকেট পাগল। তার ওপর আবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট যেহেতু চলছে, তাই তার পাগলামির পরিমাণটাও একটু বেশিই বেড়েছে। পথে ঘাটে যা হাতের কাছে পাবে, তাই দিয়েই হয় ব্যাট করার ভঙ্গি করবে আর তা না হলে বল। রাস্তার পাথর দিয়ে বল করতে গিয়ে কয়জনকে যে মেরেছে, তার কোনো ঠিক নেই।

আজকেও ঠিক একই ভঙ্গিতে আবুল বাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। হাতে বাজারের ব্যাগ আর দুইশ টাকা। ব্যাগ দিয়ে মাঝেমধ্যে ব্যাটিং আর টাকা দিয়ে বলের ভঙ্গি করতে করতে বাজারে গেল সে। কিন্তু একি! বাজারে গিয়ে দেখে ব্যাগ হাতে থাকলেও টাকা দুইশ নেই। কোথায় হয়তো পড়ে গেছে। না পড়ে যাবে কোথায় বলুন? বল করার ভঙ্গিতে কখন যে টাকা দুইশ হাত থেকে পড়ে গেছে বুঝতেও পারেনি সে। এখন কী করবে, সেই চিন্তায় পড়ে গেল আবুল। হঠাত্ পত্রিকার পাতায় একটি খবরের দিকে চোখ পড়াতে আনন্দিত হলো। কোনো কথা না বলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিল। মা কুলসুম বেগম আর বাবা মকছেদ আলীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে একটা বড় পদক্ষেপ গ্রহণ শেষ করে খালি হাতে বাড়িতে ফিরে এল আবার।

বাজারের ব্যাগ খালি দেখে এর কারণ জানতে চাইলেন কুলসুম বেগম। টাকা যে সে হারিয়ে ফেলেছে, সেই কথা মা কুলসুম বেগমকে জানিয়ে হাসতে থাকল আবুল। টাকা হারিয়ে মানুষ কষ্ট পাবে আর তা না করে সে হাসছে, এই কথা বলে মা কুলসুম বেগম লাঠি দিয়ে আবুলকে মারতে উদ্যত হলে আবুল কুলসুম বেগমকে বলল, ‘মেরো না মা, টাকা হারালেও সেই টাকা কিন্তু আবার ফিরে আসবে।’ কিভাবে ফিরে আসবে, মা জানতে চাইলে সে এবার বলল, ‘দুইশত টাকা হারানোর পর মন খারাপ করে বাড়িতে ফিরছিলাম। হঠাত্ দোকানের এক পত্রিকায় চোখ পড়ল, যেখানে লেখা আছে—বেশি টাকা হারালে ফিরে পাওয়া যায়। তাই আমি বাড়িতে এসে বাবার টাকা ভরা মানিব্যাগটা রাস্তায় ফেলে এসেছি, একটু অপেক্ষা করলেই সব টাকা ফিরে পাবে মা।’

কথা শেষ হতে না হতেই মা কুলসুম বেগম ডেভিড ওয়ার্নারের রূপ ধারণ করে আবুলকে বল ভেবে বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারি মারতে থাকল। বাবা মকছেদ আলী রিভিউ নিয়েও ছেলেকে এই ধোলাই থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হলেন।