শিপন আহমেদ হিমেল
স্যার ক্লাসে বসে তার বউয়ের সঙ্গে চ্যাটিং করছে। ছাত্ররা ক্লাসে হৈচৈ শুরু করে দিয়েছে। সে দিকে স্যারের কোনো খেয়াল নেই।
বল্টু বসে বসে তার হবু বউয়ের কাছে চিঠি লিখছে।
আবুল গান গাইছে, ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে!’
আবুলের গানে বল্টুর চিঠি লেখায় সমস্যা হচ্ছে। তাই সে স্যারকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘স্যার! আবুল ক্লাসে বসে বসে গান গাইছে।’
বল্টুর কথা শুনে স্যার মোটাইলটা তার পকেটে রেখে আবুলের কাছে এসে বলল, ‘এই তুই ক্লাসে বসে গান গাইছিস?’
আবুল কিছুই বলছে না।
‘বল, কী গান গেয়েছিস?’
বল্টু লাফ দিয়ে উঠে বলল, ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে—এই গান গাইছিল স্যার।’
স্যার আবুলকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘তর এত বড় সাহস! ক্লাসে বসে বউকে নিয়ে গান গাইছিস?’
আবুল বলল, ‘স্যার, আমি বউকে নিয়ে একটা গান গেয়েছি এটা দোষ হয়েছে! আর বল্টু যে তার হবু বউয়ের কাছে জাদু-সোনা-ময়না বলে চিঠি লিখছে, সেটাতে কোনো দোষ নেই?’
‘কী এই বয়সেই বউয়ের কাছে চিঠি লিখছে! এই বল্টু! তুই দাঁড়া? আচ্ছা আমাকে বল তো তুই বড় হয়ে কী করবি?’
বল্টু বলল, ‘স্যার, একটা বিয়ে করব।’
‘কী! কী বললি তুই বিয়ে? আচ্ছা ঠিক আছে। বিয়ের পর কী করবি?’
বল্টু লজ্জা লজ্জা কণ্ঠে বলল, ‘আমার বউয়ের সাথে প্রেম করব!’
স্যার রেগে বলল, ‘আরে গাধা, আমি বলতে চাচ্ছি লেখাপড়া শিখে তুই কী হবি?’
‘স্যার, আমার একমাত্র বউয়ের আদরের স্বামী হবো!’
স্যার আরেকটু রেগে বলল, ‘কী সব বিয়া বিয়া আর বউ বউ শুরু করে দিয়েছিস? আমি বলেছি লেখাপড়া শিখে কাজ কাম কী করবি?’
‘এই ধরুন স্যার! বিয়ের পর সবাই যা করে আমিও তাই করব, এই আর কি!’
স্যার রেগে উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘তবে রে বেটা!’
এমন সময় হেড মাস্টার দৌড়ে এসে বলল, ‘কী হয়েছে এখানে?’
স্যার বলল, ‘দেখন না স্যার, বল্টু আর আবুল ক্লাসে বসে বউকে নিয়ে গান গাইছে আর চিঠি লিখছে।’
হেড মাস্টার বলল, ‘আপনি ক্লাসে থাকতে ওরা বউকে নিয়ে গান গায় আর চিঠি লিখে কী করে?’
স্যার লজ্জিত কণ্ঠে বলল, ‘না মানে! আসলে স্যার ফেসবুকে আমি একটু আমার বউয়ের সাথে চ্যাটিং করছিলাম।’
পাশের রুম থেকে সহকারী শিক্ষক এসে বলল, ‘হ্যাঁ স্যার, উনি ঠিকই বলছেন।’
হেড মাস্টার বলল, ‘উনি যে ঠিক বলছেন, সেটা আপনি জানলেন কী করে?’
সহকারী শিক্ষক বলল, ‘না মানে! আসলে হয়েছে কি স্যার, আমি আমার বউয়ের সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে এখানে এসে দেখি উনি মোবাইল হাতে নিয়ে উনার বউয়ের সাথে চ্যাটিং করছেন!’
হেড মাস্টার রেগে বলল, ‘আপনারা কি বউয়ের সাথে চ্যাটিং করতে আর ফোনে আলাপ করতেই স্কুলে এসেছেন নাকি?’
এমন সময় হেড মাস্টারের রুম থেকে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব কানে মোবাইল রেখেই দৌড়ে এসে হেড মাস্টারকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘কী ব্যাপার আপনি এখানে? আমি তো আপনার রুমে বসে থেকে আপনাকে না দেখে আমার বউয়ের সাথে আধা ঘণ্টা ধরে কথা বলছিলাম!’
হেড মাস্টার বললেন, ‘স্যার, আসলে হয়েছে কি, স্কুলের বাগানে আমার বউয়ের সাথে ডেটিং মারতে গিয়েছিলাম!’
টিএনও সাহেব বললেন, ‘বউ বউ আর বউ! এই বউয়ের কথা আর বলবেন না! আমার বউ জোর করে আমাকে এখানে বেড়াতে নিয়ে এসেছে! স্কুলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তাই ভাবলাম একটু স্কুলটা দেখেই যাই।’ টিএনও সাহেব মোবাইলটা কানে ধরে বলল, ‘হ্যাঁ, হ্যালো বউ! আমি আসছি!’
