দেশের সর্বস্তরের গ্রামীণ জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে একটি। কমিউনিটি ক্লিনিক বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যা ইতিমধ্যে প্রতীয়মান হয়েছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায়। এখানে নির্মিত ২১টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ইতিমধ্যে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের দেওয়া বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ।
অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনা বর্তমান সরকারের মূখ্য কর্মসূচিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এগুলোকে পর্যায়ক্রমে উন্নত করার পরিকল্প গ্রহণ করেছেন সরকার। গ্রামীণ সড়কের পাশে-প্রায়ই চোখে পড়ে একেকটি কমিউনিটি ক্লিনিক। একই নকশায় তৈরি ছোট্ট ভবনে এই ক্লিনিক। গ্রামীণ জনপদের প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য একটি করে ক্লিনিক তৈরি করা হয়েছে। বাড়ি থেকে সামান্য হাটলে পাওয়া যাবে এই স্বাস্থ্যসেবা। এমন পরিকল্পনায় ক্লিনিকগুলোর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনে চারটি করে রুম। তিনটি স্বাস্থ্যকর্মীদের বসার এবং একটি রোগীদের। আধুনিক মানের একটি ক্লিনিক হিসেবে বাঘা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট তিনটি করে প্রত্যান্ত গ্রামের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে সর্বমোট ২১টি ক্লিনিক।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আলোচনা উঠলেই কমিউনিটি ক্লিনিককে বাদ দিয়ে সেই আলোচনা পূর্ণ হয় না। স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পেছনে আছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন ও উদ্যোগ। এর মধ্যে একটি হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। কমিউনিটি ক্লিনিক বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্যগাথা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি পুস্তিকার নাম দেওয়া হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। এটিকে ইংরেজিতে ‘হেলথ রেভল্যুশন ইন বাংলাদেশ’ বলা হয়।
সরেজমিন সোমবার (২৩-অক্টবর) বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের জোতরাঘাব কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের উপস্থিতি প্রশংসনীয়। কেউ বাইরে টিনসেড করে বসে আছেন, আবার কেউ-কেউ চিকিৎসা নিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। এদেরই একজন সালমা বেগম জানান, তার সন্তানের শরীরে জ্বর আসায় তিনি ক্লিনিকে এসেছিলেন। ডাক্তার ম্যাশিনের সাহায্যে জ্বর মাপাসহ বিনা টাকায় একটি ঔষুধের বোতল এবং কয়েক রকম ট্যাবলেট দিয়েছে বলে তিনি জানান।
বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডাক্তার আসাদুজ্জামান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসা সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত মেয়াদে সারাদেশে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কাজ শুরু করেন এবং সে সময় ১০ হাজার ৭২৩ টি ক্লিনিক চালু করা হয়। এর ফলে গ্রামের দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে যায় চিকিৎসা সেবা।
এরপর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে সেই ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেন। ফলে দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চালু করেন। তিনি বাঘার অবস্থান সম্পর্কে বলেন, এখানকার ২১টি ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০টা করে রুগী দেখা হয়। এই ক্লিনিকগুলো চালু হওয়ার মাধ্যমে যারা পরিবহন ভাড়া দিয়ে হাসপাতালে আসতে পারে না। তারা অনায়াসে বাড়ির পাশে কিংবা এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে প্রবেশ করলেই পাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। এ জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

