দুইশ বছরের সম্প্রীতির মেলায় সব ধর্মের মানুষের ঢল

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ২১:২৩

মানিকগঞ্জের ঘিওরে শুরু হয়েছে সম্প্রীতির মেলা। ২শ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় হাজারো মানুষের আগমনে পরিণত হয়েছে মিলনমেলা। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে মেলা। চলবে  বুধবার বিকাল পর্যন্ত। উপজেলার দুর্গা নারায়ণ (ডিএন) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই মেলার আয়োজন করে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। এই মেলা বিজয়া দশমীর মেলা হিসেবেও পরিচিত।

আয়োজকেরা জানান, উপজেলা সদরের সব দুর্গা মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জনের আগে পুরানো ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে স্কুলের মাঠে জড়ো করা হয়। পুরো মাঠ ভরে যায় প্রতিমায়। শেষবারের মতো দুর্গা দেবী দর্শন করতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভিড় করেন। বিসর্জনের আগে হিন্দু নারীদের উলুধ্বনি আর কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রতিমা বিসর্জনের পর মুহূর্তেই আনন্দ আর গানবাজনার মূর্ছনায় মেতে ওঠেন হাজারো মানুষ। মেলায় অন্য ধর্মের মানুষেরও ঢল নামে। ধর্মীয় সম্প্রীতির এই উজ্জ্বল নজিরের ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

দেখা যায়, মেলায় ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান, হরেক পণ্যের পসরা, নাগরদোলা, তৈজসপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রীর শতাধিক দোকান বসেছে। বেচাকেনাও বেশ ভালো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মেলায় আগত শিক্ষার্থী পৃথা সাহা, অর্পিতা সাহা, দিপা সরকার বলেন, ছোটবেলা থেকেই বিজয়া দশমীর দিন এই মেলায় আসি। এখানে বন্ধুদের সঙ্গে অনেক আনন্দ হয়। বিসর্জনের আগে শেষবারের মতো দুর্গা প্রতিমা দর্শন করি।

ঘিওর উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার শীল গোবিন্দ বলেন, বিজয়া দশমীর সম্প্রীতির মেলায় সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে সরগরম থাকে পুরো এলাকা। এ ঐতিহ্য দুইশ বছরের বেশি। এবারে এ মেলায় গানবাজনা নৃত্যসহ নানা অনুষঙ্গ বাড়তি আনন্দ দিয়েছে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক রাম প্রসাদ সরকার দীপু বলেন, বিজয়া দশমীর দিন সব ধর্মের মানুষ মেলার আনন্দ উপভোগ করতে সমবেত হন এই স্কুলের মাঠে। বিজয়া দশমীর রাতে একযোগে উপজেলা সদরের সব মণ্ডপের প্রতিমা ধলেশ্বরীর জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। তখন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিজয় দশমীর দিন এখানে সম্প্রীতির মেলা বসে। আনন্দে মেতে ওঠেন সব ধর্মের মানুষ। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই সম্প্রীতির মেলা অন্য কোথাও সচরাচর দেখা যায় না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এমন মিলনমেলা সত্যিই বিরল। ধর্মের বিভেদ, বিভাজন কোনো দিনই এই মেলার সর্বজনীনতায় দেয়াল তুলতে পারেনি।

মেলায় উপস্থিত ছিলেন ইউএনও আমিনুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম, ঘিওর থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আলাই, উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শচীন্দ্র নাথ মিত্র, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার শীল গোবিন্দ, ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল, ঘিওর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাম প্রসাদ সরকার দীপুসহ অন্যরা।

ইত্তেফাক/পিও