কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকটে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে থাকা পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও শ্রমিক।
জানা গেছে, উপজেলার রমনা ঘাট থেকে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে নিয়মিত দুটি ফেরিতে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন প্রকার পরিবহন পারাপার করে আসছে। প্রতি ট্রিপে ফেরি কুঞ্জলতা ৮/৯টি ও বেগম সুফিয়া কামাল ১২/১৩টি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করতে পারে। ব্রহ্মপুত্রের পানি হঠাৎ কমে যাওয়ায় নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। এতে বাধ্য হয়ে ফেরি দুটিকে কম গাড়ি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। ফলে ঘাট এলাকার রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে পরিবহনগুলো দাড়িয়ে থেকে ফেরি পার হতে অপেক্ষা করতে হয় ৪/৫দিন। সোমবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টায় ফেরি কুঞ্জলতা ৮টি ও সকাল ১০টায় ফেরি বেগম সুফিয়া কামাল ১০টি পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে রৌমারী নৌঘাটের উদ্দেশ্যে যায়।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুটি ফেরি চলে যাওয়ার পরও রাস্তায় ২৩টি পণ্যবাহী পরিবহন ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে। এ সময় লালমনির হাট বুড়িমারী এলাকা থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মো. সুমন মিয়া ও রাসেল মিয়া জানান, তারা গত তিনদিন আগে ঘাটে এসেও পার হতে পারেনি।
চালক সাইফুল ইসলাম জানান, রোববার (২২ অক্টোবর) রাতে আমার সিরিয়াল ছিলো ২৫নম্বর। আজ ফেরি ১ ট্রিপ নিয়ে যাওয়ার পরও আমি ২১ নম্বরে আছি। আজও আমার পারি দেওয়া হবে না। এখানে গাড়ির সিরিয়াল আগে নিতেও টাকা লাগে। গাড়ির চাপ কমাতে রাতেও ফেরি চলাচল করা দরকার।
আরেক ভুক্তভোগী চালক কাজল বলেন, ফেরি পার হওয়ার জন্য এ পথে এসে ৪ দিন যাবত অপেক্ষা করছি। আমার গাড়িতে ভুট্টা আছে। গত ৪ দিনে ভুট্টার দাম কেজি প্রতি ১টাকা কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়তে হবে।
বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার বাণিজ্য প্রফুল্ল চৌহান বলেন, সকালে ফেরি কুঞ্জলতা ৮টি ও ফেরি বেগম সুফিয়া কামাল ৯টি পরিবহন নিয়ে যাওয়ার পরও ২৩টি গাড়ী অপেক্ষায় আছে। নাব্যতা সংকট কেটে গেলে আর জট থাকবে না।
বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্যিক) এসএম আসিকুজ্জামান বলেন, নাব্যতা সংকট এবং ঘাটে সমস্যার কারণে ফেরি দুটি ঠিকমতো চলতে পারছে না। এই দুই সমস্যার সমাধান হলে প্রয়োজনে চিলমারীতে আরও ফেরি পাঠানো হবে।
