কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ১৯৮৪ সালে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (বিজিডিসিএল) গ্যাস কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। এরপর প্রায় ৩৯ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ হয়নি বর্জ্য পরিশোধনাগার। ফিল্ড থেকে উত্তোলনকৃত ডিজেল ও পেট্রোলের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ফিল্ডের বাইরের একটি পুকুরে। বছরের পর বছর এ পুকুরে বর্জ্য ফেলায় জনস্বাস্থ্য ও কৃষি জমি ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে পুকুরে ফেলা বর্জ্য এলাকার খাল ও বিভিন্ন পুকুরে ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধযুক্ত কালচে এসব পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করায় নষ্ট হচ্ছে ফসল। মরে যাচ্ছে পুকুর-জলাশয়ের মাছ। আর খালের পানিতে মেশা বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকার মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত।
পরিবেশ অধিদপ্তর আইনে বলা হয়েছে, প্রতিটি কল-কারখানার কেমিক্যালযুক্ত বর্জ্য-পানি পরিশোধন করতে হবে এবং পরিশোধনকৃত পানি আবার কাজে লাগাতে হবে। এজন্য ব্যবহার করতে হবে তরল পানি বর্জ্য শোধনাগার বা এ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি)। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে এই ইটিপি প্ল্যান্ট না থাকার কারণে বছরের পর বছর দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে বাখরাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করা হয়। ১৯৮৪ সালে এ ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, বাখরাবাদ ফিল্ডের মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ১ হাজার ৩৮৭ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ)। গ্যাসের উপজাত হিসেবে দৈনিক প্রায় ৩৬ দশমিক ৮৩ ব্যারেল কনডেনসেট (জ্বালানি তেলের) উপাদান উৎপাদিত হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এ গ্যাসক্ষেত্রে কনডেনসেট ও গ্যাসের গড় অনুপাত এবং পানি ও গ্যাসের গড় অনুপাত যথাক্রমে ১ দশমিক ১৫৫ ব্যারেল মিলিয়ন ঘনফুট এবং ৯ দশমিক ৯২৫ ব্যারেল মিলিয়ন ঘনফুট ছিল। এখানকার কন্ডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল ও ডিজেল তৈরি করা হয়। যা মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড বাজারজাত করে থাকে।
বাখরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. খোকন বলেন, ফিল্ডের পাশের একটি পুকুরে পানি বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ঐ বর্জ্যের দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষ অতিষ্ঠ। বর্ষার মৌসুমে বর্জ্য পানি আশপাশের পুকুরের পানিতে মিশ্রিত হয়। যা স্থানীয়দের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছয়ফুল্লাহকান্দি গ্রামের মো. সোহাগ বলেন, কয়েক মাস পরপর এ গ্যাসফিল্ডের ওভার গ্যাস শূন্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ঐ সময় বিকট শব্দ হয়। কয়েকঘণ্টা যাবত চলে এ কার্যক্রম। যার কারণে শিশুরা আতঙ্কে থাকে। এছাড়া খোলা পুকুরে থাকা বর্জ্যের দুর্গন্ধে স্থানীয়রা নানা সমস্যায় ভোগে। পানি বর্জ্য পরিশোধনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জিয়াউল কবীর বলেন, আমাদের ফিল্ডের বর্জ্য পরিশোধন হয়ে পুকুরে যায়। যে পুকুরটিতে বর্জ্য ফেলা হয় সেটি আমাদের নিজস্ব পুকুর। ঐ পুকুরের চারপাশে আরসিসি পেলা সাডিং ওয়াল নির্মাণ করা আছে। যার কারণে পুকুরের বর্জ্য অন্য কোনো পুকুরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া আমরা ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। শিগগিরই টেন্ডারের মাধ্যমে ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মোছাব্বের হোসেন মো. রাজিব বলেন, পুকুরে পানি-বর্জ্য ফেলার বিষয়টি আমার জানা নাই। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
