দিল্লিতে দ্য ম্যাক্সওয়েল শো

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৩, ১৪:৩২

গেল বছরের জুন থেকেই জাতীয় দলের হয়ে ব্যাট হাতে বাজে সময় কাটাচ্ছেন মাঠ মাতানো অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। এ সময় তাকে নিয়ে চারিদিকে আলোচনা চলছিল কবে আবার ছন্দে ফিরবেন অসি এই মারকুটে ব্যাটার। অবশেষে রানে ফিরলেন তিনি। তবে শুধু রানে ফিরলেন বললে ভুল হবে, কারণ এ ম্যাচে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরি করার রেকর্ডও। তাতে ক্রিকেট বিশ্ব দেখল দিল্লিতে ‘দ্য ম্যাক্সওয়েল’ শো। যেখানে বলে বলেই দেখা গেছে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি।

চলতি বিশ্বকাপে গেল ৭ অক্টোবর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নেমে ৪৯ বলেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও’ব্রায়ানকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের নামে লিখে নিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মারকুটে ব্যাটার এইডেন মার্করাম। তবে সেই রেকর্ডটি বেশিদিন নিজের নামে রাখতে পারলেন না। ১৭ দিনের মাথায় ফর্মে ফিরে তার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। গতকাল একই মাঠে খেলতে নেমে মাত্র মার্করামের থেকে ৯ বল কম খেলে সেঞ্চুরি করে বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান বনে যান অজি এই অলরাউন্ডার।

বুধবার দিল্লিতে অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছিল নেদারল্যান্ডসের। এ দিন ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ডাচ বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান ম্যাক্সওয়েল। ৩৫ বছর বয়সী এই অসি অলরাউন্ডার এ ম্যাচে ২৭ বলে করেন ৫০ রান। পরে বাকি ১৩ বলে তুলে নেন সেঞ্চুরি। বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে শেষ ওভারে গিয়ে থামেন ম্যাক্সওয়েল। ফন ডি’ ভিকের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে সীমানার কাছে ধরা পড়েন তিনি। ৪৪ বলে তার ১০৬ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯ চার ও ৮ ছক্কায়।

এদিকে ওয়ানডে ইতিহাসে দ্রুততম শতকের তালিকায় ম্যাক্সওয়েল আছেন এখন ৪ নম্বরে। ৩১ বলে সেঞ্চুরি করে চূড়ায় এ বি ডি ভিলিয়ার্স। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই সংস্করণে দ্রুততম শতকের রেকর্ড আগে থেকেই ছিল ম্যাক্সওয়েলের। ২০১৫ বিশ্বকাপে সিডনিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫১ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন তিনি। এবার ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকেই। এছাড়া, ৪৪ বলে ১০৬ রানের ইনিংসে ম্যাক্সওয়েলের স্ট্রাইক রেট ছিল ২৪০.৯০। যা কিনা এই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি ইনিংসে এর চেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট আছে আর একজনের ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬২ রানের অপরাজিত ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার এ বি ডি ভিলিয়ার্সের স্ট্রাইক রেট ছিল ২৪৫.৪৫।

এমন বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পর ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘ওয়ার্নার ও ক্যামেরন গ্রিন যখন আউট হয়ে গেল, তখন ঠিক করি শেষ অবধি খেলব। আমি জানতাম শেষ পর্যন্ত থাকলে রান পাবই। নেদারল্যান্ডস প্রথম দিকে বেশ কিছু ৪ বাঁচিয়ে দেয়। ভালো ফিল্ডিং করছিল ওরা। আউটফিল্ড খুব শক্ত। সেখানে এই ভাবে ফিল্ডিং করা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের দ্রুত ওদের প্রথম দিকের ব্যাটারদের আউট করতে হবে। তাহলেই চাপে ফেলতে পারবো।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ