আল্লাহ সকল কিছুর মালিক। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়
ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
মিজানুর রহমান, সহকারি শিক্ষক
পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে জানা ও ইমান আনার জন্য আমাদের কী কী জানা জরুরী?
উত্তর : আল্লাহ সমগ্র পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তিনি সর্বশক্তিমান। যাঁর হুকুমে সমস্ত কিছু সৃষ্টি হয়েছে এবং ধ্বংস হবে। যিনি সর্বত্র বিরাজমান। যিনি সবকিছু দেখতে ও শুনতে পান। যিনি কিয়ামতের দিন আমাদের ভালো-মন্দের বিচার করবেন। আল্লাহ সম্পর্কে জানা ও ইমান আনার জন্য আমরা বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবো। যেমন—
ক.আল্লাহর অস্তিত্ব : আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস থাকা জরুরী। সমগ্র পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। আল্লাহ সকল কিছুর মালিক। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরীক নেই।
খ.আল্লাহর গুণাবলি : কুরআন মজিদে আল্লাহ পাকের অনেক গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বিশ্বের পালনকর্তা, তিনি ক্ষমাশীল, তিনি সহনশীল, তিনি সর্বশক্তিমান, তিনি সব শোনেন ও জানেন ইত্যাদি অনেক গুণে তিনি গুণান্বিত।
গ.আল্লাহর বিধান : আল্লাহর আইন ও বিধান অনুসরণ করে চললে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। আল্লাহর বিধান হচ্ছে কুরআন মজিদ।
ঘ.নবি-রাসুলগণের শিক্ষা : আল্লাহর বিধান অনুযায়ী নবি-রাসুলগণ থেকে আমরা তাওহীদ, রিসালাত, দীন, আখলাক, শরীআত ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করে, ইহকালে মঙ্গল ও পরকালে জান্নাত লাভ করতে পারবো। আমাদেরকে পথ দেখিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ যুগে যুগে সকল সম্প্রদায়ের নিকট নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন।
২.মুমিন কাকে বলে? ইমানের ফল কী?
উত্তর : ইসলামের মঙ্গল বিষয় যেমন -আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, নবি-রাসুল, শেষ দিবস, মৃত্যু ও মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং সেই অনুযায়ী আমল করাই হলো প্রকৃত ইমান। যার ইমান আছে তাকে মুমিন বলে। আর ইমানের ফল হলো মানুষকে আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসাবে গড়ে তোলা।
৩. সারা বিশ্বের পালনকর্তা কে? তাঁর লালন-পালনের একটি বর্ণনা দাও।
উত্তর : সারা বিশ্বের পালনকর্তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা।
তাঁর লালন-পালনের একটি বর্ণনা : আমরা যা কিছু দেখতে পাই সবই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন। আবার অনেক কিছু আছে যা আমরা দেখতে পাই না, সেগুলোও তিনিই সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের লালন-পালন ব্যবস্থা করেছেন। আমাদের চারপাশে রয়েছে জীবজন্তু, পশুপাখি, গাছপালা, আরও অনেক কিছু। এগুলো তিনিই সৃষ্টি করেছেন। আবার তিনিই এগুলোকে খাদ্য, পানি, আলো ও বাতাস দিয়ে লালন-পালন করেন। সকল জীবজন্তু , পশুপাখি, তৃণলতা ও গাছপালা খাদ্য গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। এভাবে আল্লাহ সকল সৃষ্টিকে লালন-পালন করেন। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘‘ভূপৃষ্ঠে যত প্রাণী আছে সকলের খাদ্য দানের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার।’’
৪.আল্লাহ তায়ালার ৫টি গুণের নাম বাংলা অর্থসহ আরবিতে লেখ।
উত্তর : মহান আল্লাহ সকল উত্তম গুণের অধিকারী। তাঁর রয়েছে ৯৯টি গুণবাচক নাম। এসব গুণবাচক নামকে বলা হয় ‘আল আসমাউল হুসনা’।
আল্লাহ তায়ালার ৫টি গুণের নাম ও অর্থ : আল্লাহ তায়ালার ৫টি গুণের নাম অর্থসহ নিচে দেওয়া হলো:
আরবি নাম উচ্চারণ অর্থ
আল্লাহু গাফুরুন আল্লাহ ক্ষমাশীল
আল্লাহু হালিমুন আল্লাহ সহনশীল
আল্লাহু সামিয়ুন আল্লাহ সর্বশ্রোতা
আল্লাহু বাসিরুন আল্লাহ সর্বদ্রষ্টা
আল্লাহু কাদিরুন আল্লাহ সর্বশক্তিমান
৫. আল্লাহ মাশীল তা বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : আল্লাহ ক্ষমাশীল। আল্লাহ পরম দয়ালু। এ গুণের জন্য আল্লাহকে গাফুরুন বলা হয়। আমরা অন্যায় কাজ করে যদি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট আন্তরিকভাবে মাফ চাই, তাহলে আল্লাহ খুশি হন এবং মাফ করে দেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন মজিদে বলা হয়েছে- ‘‘ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম”। অর্থাত্ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল - করুণাময়।
৬. নবি-রাসুলগণের শিক্ষার মূল কথাগুলো কী কী?
উত্তর : নবি ও রাসুল মানুষকে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে শিক্ষাদানের জন্য আল্লাহর নিকট থেকে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছেন। নিচে তাঁদের শিক্ষার মূল কথাগুলো বর্ণনা করা হলো :
১.তাওহিদ : আল্লাহ এক। তার কোনো শরিক নেই।
২.রিসালাত : আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছানো।
৩.দীন : আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষকে জানানো।
৪.আখলাক : চারিত্রিক গুণ ও ভালো ব্যবহারের নিয়ম-কানুন শিক্ষাদান।
৫.শরিয়ত : হালাল-হারাম ও জায়েজ-নাজায়েজের শিক্ষা প্রদান।
৬.আখিরাত : মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে জানানো।
