রসায়ন
মো. রমজান আলী,সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান)
দুহুলী এসসি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, লালমনিরহাট
প্রিয় নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ, অনুশীলন বিভাগে তোমাদের স্বাগতম। আজ তোমাদের সুবিধার্থে রসায়ন বিষয়ের চতুর্থ অধ্যায় হতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর উপস্থাপন করছি।
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ্য কর ও প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পর্যায় সারণির খণ্ডিত অংশ দেয়া হলো-
(যেখানে A, B, C ও D প্রতিকী অর্থে; প্রচলিত কোনো মৌলের প্রতীক নয়)
Li F
A Mg Al B C S D
K Br
Rb I
ক.ক্ষার ধাতু কী?
খ. Ba কে মৃত্ ক্ষার ধাতু বলা হয় কেন?
গ.উদ্দীপকের A থেকে B মৌলগুলোর আকারের ক্রম বর্ণনা করো।
ঘ.উদ্দীপকের C থেকে D মৌলগুলোর মধ্যে কোন মৌলের তড়িত্ ঋণাত্বক তা সবচেয়ে বেশি তা পরমাণুর আকারের সাহায্যে বিশ্লেষণ করো।
চলো এবার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেখে নেই:
ক. পর্যায় সারণির ১ নং গ্রুপের ৬টি মৌলকে (Li, Na, K, Rb, Cs এবং Fr) ক্ষার ধাতু বলে।
খ.পর্যায় সারণির ২নং গ্রুপের Be, Mg, Ca, Sr, Ba, Ra এই 6 টি ধাতুকে মৃত্ক্ষার ধাতু বলে। পৃথিবীর উপরি ভাগের মাটির আবরণ হলো ভূ-ত্বক। ভূ-ত্বকে বিভিন্ন ধাত ুযৌগ রূপে বিদ্যমান। Ba মাটিতে BaO রূপে বিদ্যমান থাকে। বেরিয়াম (Ba) মাটির নিচে যৌগরূপে পাওয়া যায় বলেই Ba কে মৃত্ক্ষার ধাতু বলা হয়।
গ.উদ্দীপকের তথ্য মতে A থেকে B মৌলগুলো ৩য় পর্যায়ের । মৌলগুলো হলো Na, Mg, Al, Si । নিম্নে মৌলগুলোর আকারের ক্রম বর্ণনা করা হলো-
আমরা জানি, পরমাণুর আকার একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। সাধারণত পর্যায় সারণির একই পর্যায়ে বাম দিক থেকে ডান দিকে গেলে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। কারণ পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও কক্ষ পথের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না। ফলে শেষ কক্ষপথের ইলেক্ট্রনের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায় এবং পরমাণুর আকার ও হ্রাস পায়। উদ্দীপকের A মৌলটি Na যা মৌলগুলোর মধ্যে সর্ব বামে এবং B মৌলটি Si যা মৌলগুলোর মধ্যে ডানে অবস্থিত। ফলে Si এর শেষকক্ষ পথের ইলেক্ট্রনের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ Na, Mg, Al এর তুলনায় সবচেয়ে বেশি এবং Na এর সবচেয়ে কম। এক্ষেত্রে Na এর আকার সবচেয়ে বড় এবং Si এর আকার সবচেয়ে কম। এদের আকারের ক্রমটি হলো- Na>Mg>Al>Si
ঘ.উদ্দীপকের C মৌলটি হলো ফসফরাস (P) এবং D মৌলটি হলো ক্লোরিন (Cl) যা পর্যায় সারণির ৩য় পর্যায়ের মৌল। এদের মধ্যে Cl পরমাণুর তড়িত্ ঋণাত্বক তা সবচেয়ে বেশি। নিম্নে পরমাণুর আকারের সাহায্যে মৌলের তড়িত্ ঋণাত্বক তা বিশ্লেষণ করা হলো- কোনো মৌল কর্তৃক সমযোজী যৌগের বন্ধনকৃত ইলেক্ট্রনকে নিজের দিকে আকর্ষণ করার ক্ষমতাকে ঐ মৌলের তড়িত্ ঋণাত্বকতা বলে। মৌলের তড়িত্ ঋণাত্বকতা একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। এক্ষেত্রে একই পর্যায়ে বাম দিক থেকে ডানদিকে অগ্রসর হলে পারমাণবিক আকার হ্রাসের সাথে সাথে তড়িত্ ঋণাত্বকতা বৃদ্ধি পায়। সাধারণত পর্যায় সারণির একই পর্যায়ে বাম দিক থেকে ডান দিকে গেলে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কোনো নতুন কক্ষপথের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না। ফলে শেষ কক্ষ পথের ইলেকট্রনের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায় এবং পরমাণুর আকারও ক্রমশ হ্রাস পায়। এজন্য সমযোজী বন্ধনের শেয়ারকৃত ইলেকট্রনের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে ৩য় পর্যায়ের P, S, Cl মৌলগুলোর আকার P হতে Cl পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ফলে সমযোজী বন্ধনের শেয়ারকৃত ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ P হতে Cl পর্যন্ত ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। তাই Cl এর তড়িত্ ঋণাত্বকতা P,S অপেক্ষা বেশি। এক্ষেত্রে ক্রমটি হলো P< S<Cl
