বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিমের হাতে গড়ে ওঠা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। বিশ্বকাপ মঞ্চে থাকা অবস্থায় সাকিব তার দলকে কলকাতায় রেখে ঢাকায় এসে আবার ফিরে গেলেন কলকাতায়। বুধবার সকালে ঢাকায় আসেন, আর গতকাল বিকালে কলকাতায় ফিরে যান। দলের সঙ্গে যোগ দেন। বিসিবি থেকে ছুটি নিয়েছিলেন দুই দিনের। আজ শুক্রবার তার ফেরার কথা থাকলেও গতকাল কলকাতায় চলে গেছেন। যেতে বাধ্য হয়েছেন। বিসিবি চায়নি বলে সাকিব গতকালই ফিরে গেছেন। না হলে আজ ঢাকা ছাড়তেন তিনি।
বিশ্বকাপে সাকিব ব্যাট বল কোনোটাই ভালো করতে পারছিলেন না। কীভাবে ভালো করা যায় তার জন্য সাকিবের ছোট বেলার কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে এসেছিলেন। কারো সঙ্গে কথা বলেননি সাকিব। একেবারে লুকোচুরি করে নিজেকে আড়াল করেছেন। মিরপুরে তার কোচ ফাহিম এসেছেন, সাকিব ছিলেন। দ্রুত ডাক্তার দেখাতে যেভাবে রোগী ছুটে আসেন, সাকিবও এসেছিলেন। সবকিছুতেই গোপনীয়তা ছিল। সংবাদ মাধ্যমকেও কাছে যেতে দেওয়া হয়নি।
বিসিবি থেকে নির্দেশ ছিল যেন সংবাদমাধ্যম সাকিবের সঙ্গে কথা না বলতে পারে। যতটা সম্ভব দূরে রাখা হয়েছিল অধিনায়ককে। কী কথা হয়েছে, সাকিবের সঙ্গে। কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমও মুখ খুলছেন না। রাখঢাক না করে পরিষ্কার জানিয়েছেন, ‘এটা বলা ঠিক হবে না।’ সাকিব কী সহযোগিতা চাইল? ফাহিম বললেন, ‘ওর যেটা বলার দরকার ছিল সেটাই বলেছে।’ আপনি কীভাবে সহযোগিতা করলেন? মানসিকভাবে কী সহযোগিতা করলেন? ফাহিম বলেন, ‘এটা আসলে আমি বলতে চাই না। কথাটা ওর (সাকিব) আর আমার মধ্যে হয়েছে তো আমার মনে হয় এটা বলার প্রয়োজন নেই। কথাগুলো বাইরে দেওয়াটা ঠিক হবে না। আমি কাউকেই বলিনি।’
ফাহিম বললেন সাকিব তিনটা সেশন করেছে। গতকাল (পরশু) ৩ ঘণ্টার একটা সেশন করেছে। আর আজকে (গতকাল) ৩ ঘণ্টার একটা সেশন করেছে।’ সেশন কেমন হলো? ফাহিম কিছু বললেন না। বলতে চাইছেন না। এক্কেবারে চুপ। ক্রিকেটের স্বার্থেই এই সাধারণ বিষয়টা প্রকাশ করছেন না ফাহিম। তবে একটা কথা বলেছেন,‘আশা করি ও ভালো থাকবে।’ এর আগে আইপিএল খেলার সময় কোচ সালাহউদ্দিনকে ভারতে নিয়ে গিয়েছিলেন সাকিব। এবার তিনি নিজেই চলে এসেছিলেন। নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে।
গুরুর কাছে যেমন শীষ্য, ফাহিম ব্যাট ধরিয়ে সাকিবকে হাতেকলমে দেখিয়ে দিয়েছেন। ব্যাটিং অ্যাকশনটা নিজে করিয়ে দেখিয়েছেন। শেখানো জিনিসটাই নতুন করে দেখিয়েছেন ফাহিম। মেরামতের কাজ করেছেন ফাহিম। দেখিয়ে চলে গেলে সাকিব নিজে নিজে অনুশীলন করেছেন। বোলিং মেশিনের ব্যবহারে ব্যাট করেছেন সাকিব। তার সঙ্গে একটা ছেলে ছিল। বল কুড়িয়ে মেশিনে দিয়েছেন। ক্লান্ত সাকিব আধঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে আবার ব্যাট করেছেন।
অনুশীলন করে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলে সাকিব সময় নেন। কারণ আগের দিন দর্শক দূরে ছিল। ৪০-৫০ জন ক্রিকেট ভক্ত দূর থেকে সাকিবকে ভুয়া ভুয়া বলছিল। এবার যেন সেগুলো দেখতে না হয় সাকিবকে, তাকে বহনকারী গাড়িটি ব্যাক গিয়ারে দিয়ে পেছনে একাডেমির ভেতরে ঢোকানো হয়। প্রথম দিন এটা ছিল না। সাকিব একাডেমি থেকে বাইরে এসে অপেক্ষারত গাড়িতে উঠেছিলেন। কাল গাড়ি ভেতরে আনতে বাধ্য হয়েছেন। তারপরও দূর থেকে দর্শক সাকিবকে উদ্দেশ্য করে মন্দ কথাই ছুড়েছেন। সাকিব আজকে কলকাতায় যেতেন। কিন্তু বিসিবি খবর পাঠিয়ে গতকালই তাকে কলকাতায় নিয়ে গেছে।
