আড়াইহাজার উপজেলায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে চার জন নিহতের ঘটনার কোনো কূলকিনারা গত এক মাসেও হলো না। নিহতের পরিবার, ভবন মালিক, তিতাস গ্যাস ও থানা কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো মামলা হয়নি। দিনে দিনে গুজবের ডালপালা ছড়াচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনও ঘটনার সুরাহা করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করছেন সুধীমহল ও নিহতের স্বজনরা। এমনকি বাড়ির মালিক ছানাউল্লাহকেও জিজ্ঞাসাবাদ না করায় রহস্যজনক এই বিস্ফোরণ ও অপমৃত্যুর ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক আহমেদ বলেছেন, তদন্ত কমিটি শিগগিরই তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবে। তদন্ত টিম একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আড়াইহাজার সদর এলাকা। ঘটনাস্থল দিঘীরপাড় ছানাউল্লাহর চারতলা ভবন। চতুর্থ তলায় পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে এক জন নিহত হয়। মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয় আরো চার জন। পরবর্তী সময়ে দগ্ধ তিন জন মারা যায় হাসপাতালে। মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় চার জন। এতবড় দুর্ঘটনার এক মাস পাঁচ দিন পার হলো। অথচ আড়াইহাজার মডেল থানায় কোনো মামলা হয়নি। খোদ থানা পুলিশও চার জন মানুষের অপমৃত্যুর বিষয়ে মামলা করেনি।
এদিকে, বিস্ফোরণের পরদিন শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি, তিতাস গ্যাসের প্রতিনিধি ও থানা ওসিসহ সরেজমিন পরিদর্শন করে ঐ ভবনে বিস্ফোরিত ইউনিট সিলগালা করে দেয়। ঐ ভবনের ভাড়াটিয়ারা জানায়, নাজমুল ও রেশমীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্ফোরণের আসল রহস্য জানা যেত । নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছয় সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে থানার ওসিকে । তদন্ত কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কমিটি প্রয়োজনে যে কোনো ব্যক্তিকে কো-অপ্ট করতে পারবেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গতকাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। যতই দিন যাচ্ছে ততই রহস্য বাড়ছে। বাড়ির মালিক ছানাউল্লাহ মামলা করেননি। নিহতদের পক্ষ থেকেও মামলা হয়নি। এমনকি পুলিশও মামলা থেকে দূরে রয়েছে। তদন্তকারী কোনো সংস্থাই কোনো ক্লু দিতে পারছে না। সব মিলিয়ে বিস্ফোরণ ঘটনায় রহস্য আরো ঘনীভূত হচ্ছে।
