স্পেনে মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৯ তম জন্মবার্ষিকী ‘শেখ রাসেল দিবস ‘ উদযাপন উপলক্ষে এক সেমিনারে আয়োজন করা হয়। ২৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সেমিনারে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয় এবং শেখ রাসেলের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ, এনডিসি তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের জীবন সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের কাছে তুলে ধরতে শেখ রাসেল দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শেখ রাসেলের শুভ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রদূত তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শেখ রাসেল দিবস ২০২৩ এর প্রতিপাদ্য ‘শেখ রাসেল দীপ্তিময়, নির্ভীক নির্মল দুর্জয়’ যথার্থ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, রাসেলের নামটি বঙ্গবন্ধু নিজেই রেখেছিলেন তাঁর প্রিয় ব্যক্তিত্ব বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের নামে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শিশুদের খুবই ভালবাসতেন। তিনি জানতেন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে হলে নতুন প্রজন্মকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সোনার মানুষ গড়তে শৈশব থেকেই শিশুদের মধ্যে চারিত্রিক গুণাবলির উন্মেষ ঘটাতে হবে। জ্ঞান-গরিমা, শিক্ষা-দীক্ষা, সততা, দেশপ্রেম ও নিষ্ঠাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিশুদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোনো শিশুই যাতে শেখ রাসেলের মতো নৃশংসতার শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
ডিপ্লোম্যাটিক কোয়লিশনের প্রখ্যাত সাংবাদিক খুয়ান লরেনটে গনজালেছ শেখ রাসেলের নির্মম হত্যাকাণ্ডকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া, অধ্যাপক কার্লোস উরিয়ার্তে সানচেজ, শেখ রাসেলের উপর আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে দূতাবাসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্পেন প্রবাসী বাংলাদেশী সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
