চাপের মুখে পাকিস্তান দুরন্ত লড়াই করতে পারে। এমন একটা কথা ক্রিকেট দুনিয়া চলে আসছিল। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে সেই চাপের মুখে গর্জে উঠা পাকিস্তানের দেখা মিলল কোথায়। এখন তো বিশ্বকাপের মঞ্চ হতে পাকিস্তানের বিদায় দেখতে পারছেন অনেকে। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১ উইকেটে হেরেছে পাকিস্তান।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ হয়েছে চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পুরো ৫০ ওভার খেলতে না পারা পকিস্তানের ২৭০ রানের জবাবে ২৭১ রানের ইনিংস খেলাটা যে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য খুব কঠিন হবে না, সেটা সবাই জানত। সব হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে ছিল এক উইকেট। সেখান থেকে ম্যাচ বের করে নিয়ে গেছে প্রোটিয়ারা। অথচ এখান থেকেও পাকিস্তানের ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা ছিল। এখানে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ছিল আম্পায়ারের। এলবিডব্লিউর রিভিউর ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছে পাকিস্তান।
৪৬তম ওভারে পাকিস্তানের হারিস রউফের বল দক্ষিণ আফ্রিকার তারবাইজ শামসির প্যাডে লাগে। পাকিস্তান আবেদন করে। পাত্তা দেয়নি পাকিস্তানকে। রিভিউ নেন অধিনায়ক বাবর আজম। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় ইনসুইং বল লেগ স্ট্যাম্পের ওপর আঘাত করছে। কিন্তু আম্পায়ার আউট দেননি। সেটা নিয়ে বাবরের আক্ষেপ থাকলেও তিনি বলেছেন এটা খেলারই অংশ। বলেছেন, ‘আম্পায়ার যদি আউট দিতেন তাহলে খেলাটা হয়তো ঘুরে যেতে পারত। এটা তো ঠিক যে, আমরা জয়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম।’
অনেকেই মনে করছেন, ইংলিশ আম্পায়র ওয়ার্ফের একটি সিদ্ধান্তই হারিয়েছে পাকিস্তানকে। ভুল স্বীকার করে আইসিসি জানিয়েছে যে, পরের বল ট্র্যাকিংই সঠিক ছিল। আইসিসির এক মুখপাত্র বলেন, ‘শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচে রাসি ভ্যান ডার দাসেনের এলবিডব্লিউ রিভিউ করার সময়ে একটি অসম্পূর্ণ গ্রাফিক ভুলভাবে প্রদর্শিত হয়। সঠিক বিবরণসহ পরিপূর্ণ গ্রাফিকটি পরে প্রদর্শিত হয়েছিল।’
আইসিসি যখন নতুন করে গ্রাফিক দেখে ততক্ষণে পাকিস্তানের সর্বনাশ হয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠছে আইসিসির এমন আজব যুক্তি নিয়েও। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এমনটাই সম্ভব? টেকনিক্যালি আইসিসি কি তবে এখন পিছিয়ে? অনেক আউটের ক্ষেত্রেই কি এভাবেই ভুল হয়ে থাকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার? জন্ম দিয়েছে নতুন প্রশ্নের! পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা তো ওয়ার্ফের সমালোচনা করছেনই, এবার যোগ দিয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা। হরভজন সিং ও ইরফান পাঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, চেন্নাইয়ে পাকিস্তান হেরেছে মূলত ওয়ার্ফের সিদ্ধান্তের কারণেই।
নেদারল্যান্ডস এবং শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরে আবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারল পাকিস্তান। টানা চার খেলায় হেরে বিশ্বকাপ ক্রিকেট থেকে বিদায়ের পথে। কিন্তু পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব আখতার এখনো বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদি, রিজওয়ান, শাকিল, শাদাবদের ওপর আস্থা রাখতে চান। শোয়েব আখতার এখনো মনে করেন, বাকি চার ম্যাচ জিততে পারলে সুযোগ আছে। বাবর আজমের প্রশংসা করছেন শোয়েব।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে মরণকামড় দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু ম্যাচ জেতার জন্য সেটাও যথেষ্ট ছিল না বলেছেন শোয়েব। শোয়েব নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, ‘বেটার লেট দ্যান নেভার। পাকিস্তান দুর্দান্ত লড়াই করেছে। ফাস্ট বোলার ও স্পিনাররা নিজেদের নিংড়ে দিয়েছে। এই দুটো পয়েন্ট যে কত মূল্যবান, তা প্রমাণ করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পুরো পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি। ফাস্ট বোলিং বিভাগ দুর্দান্ত কাজ করেছে।’ এবারের মেগা ইভেন্ট থেকে প্রায় ছিটকে যাওয়ার মুখে পাকিস্তান। কোন কোন বিভাগে উন্নতি সম্ভব, সে সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন রাওয়ালপিণ্ডি এক্সপ্রেস। ধীরগতিতে শুরু করে পাকিস্তান।
পাওয়ার প্লেতে আরেকটু দ্রুতলয়ে রান তুলতে পারত পাকিস্তান। এমনটাই জানিয়েছেন শোয়েব। তিনি বলেছেন, ‘পাকিস্তান অনেকগুলো ডেলিভারিতে রান তুলতে পারেনি। পাওয়ার প্লেতেও অনেক সময় নিয়েছে। শাহিন আফ্রিদি যখন বল করছিল, তখন স্লিপ রাখার দরকার ছিল। ফিল্ড প্লেসিং আরেকটু আক্রমণাত্মক হওয়ার দরকার ছিল।’ শোয়েবের মতে, পাকিস্তানের ৩০০ রান করার দরকার ছিল। ত্রুটিবিচ্যুতি থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সার্বিক লড়াইয়ে খুশি শোয়েব আখতার। তিনি বলছেন, ‘দলটাকে দেখে মনে হয়েছে খুবই সিরিয়াস। আমি ওদেরই পাশে। তবে পাকিস্তান ৩০০-র বেশি রান তুলতে পারত।’
