বিএনপির কার্যালয়ে ‘মিয়া আরেফি’ নিয়ে আলোচনা ও কয়েকটি ঘটনা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ২২:০৪

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পরপরই বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ ফোন করে অসুস্থতার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তবে সেদিনই ভারতীয় হাই কমিশন জানায়, বিজেপি সভাপতি খালেদা জিয়াকে ফোনও করেন নি, কথাও বলেননি।

এরপর ৮ জানুয়ারি খবরটি প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অমিত শাহকে ফোন করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। অমিত শাহ জানান, ‘বাত নেহি হুয়া, সব রিউমার হ্যায়!’ 

এর পরপরই সামনে আসে মার্কিন কংগ্রেসের ছয় সদস্যের নামে ভুয়া বিবৃতি অনুষঙ্গ। খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের বিরুদ্ধে ও তারেক জিয়ার বক্তব্য প্রচারের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের ৬ সদস্য বিএনপির পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে বলে বলা হয়। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি গণমাধ্যমে সেই সংবাদ ছেপেছিল। পরে অবশ্য সেই সংবাদ গণমাধ্যম থেকে অপসারণ করা হয়; যখন আসল সত্য বের হয়ে আসে।

মার্কিন কংগ্রেসের তৎকালীন পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েস ও র‍্যাঙ্কিং মেম্বার এলিয়ট অ্যাঙ্গেল বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তাদের নামে প্রচারিত বিবৃতিটি নিজেদের নয় বলে জানিয়েছিল। 

এদিকে বিএনপির গত ২৮ অক্টোবর সমাবেশকে আরও বেশি সহিংস বা হিংস্র রূপে দাঁড় করার জন্য হাজির করা হয় কথিত ‘বাইডেন উপদেষ্টাকে’! এদিন দিনব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা, বর্বরতার পর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে একটি প্রতিনিধিদল বিএনপি কার্যালয়ে যাচ্ছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ‘জো বাইডেনের উপদেষ্টা’ পরিচয়ে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মিয়া আরেফি নামের এক ব্যক্তি। সেই মিয়া আরেফির সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়। মিয়া আরেফি যখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন, তখন তার পাশে বসা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইশরাক। ইশরাকই তাকে গাইডলাইন দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে তাকে নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। তবে এমন ব্যক্তিকে চেনে না বলে জানায় ঢাকায় অবস্থিত খোদ মার্কিন দূতাবাস।

এরপরই রোববার সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিয়া আরেফিকে আটক করে পুলিশ। গ্রেফতারের পরপরই ইংরেজি বাদ দিয়ে বাংলায় কথা বলা শুরু করে। 

মিয়ান আরেফির পৈতৃক বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার মানিকদিয়ার গ্রামে। তার বাবা পাবনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন। সেই সুবাদে পাবনা জেলা সদরের দক্ষিণ রাঘবপুর মহল্লার শায়েস্তা খাঁ সড়কে জমি কিনে বাড়ি করেন। একসময় তারা পরিবার নিয়ে এই বাড়িতেই থাকতেন। ৩০–৩৫ বছর আগে সপরিবারে আমেরিকা চলে যান। তবে এখানে তার আত্মীয়স্বজন তেমন কেউ নেই। বাড়ির আশপাশের মানুষ তাঁকে চেনেন ‘বেলাল’ নামে বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়।

লেখক: জয়দেব নন্দী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রচার সম্পাদক

 

ইত্তেফাক/এএএম