বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

টাকা পে’র ফলে পরনির্ভরশীল থাকতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৩, ১৩:৪৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ না হলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকতো না। টাকা পে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলারই একটি পদক্ষেপ। টাকা পে’র ফলে পরনির্ভরশীল থাকতে হবে না।’

বুধবার (১ নভেম্বর) ন্যাশনাল স্কিম টাকা-পে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ কারও করুণা ভিক্ষা করে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটাকে জাতির পিতা যেখানে রেখে গেছেন ‘৭৫ সালের পর যারা ক্ষমতায় আসে তারা ধরে রাখতে পারেননি। অনেকের কাছে আমাদের হাত পাততে হয়। আমরা ক্ষমতায় এসে সে অবস্থার পরিবর্তন করেছি। স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যাব বলে স্থির করি। আজকের বাংলাদেশে কারও করুণা ভিক্ষা করে না। আমরা বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলি।’

‘টাকা পে’ কার্ডের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্যাশলেস সোসাইটি করার পথে টাকা পে আরেকটি মাইলফলক। টাকা পের মাধ্যমে বিদেশি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। ক্যাশলেস সোসাইটি হলে দুর্নীতি কমবে আর রাজস্ব বাড়বে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশে প্রচলিত কার্ডগুলো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত। আন্তর্জাতিকভাবে কোনো বৈরি পরিবেশ হলেও যেন আমাদের অর্থনীতি সচল থাকে, সেজন্য নিজস্ব মুদ্রায় এ কার্ডের প্রচলন করেছি। এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিশেষ করে, একটা হার্ড কারেন্সির ওপর আমাদের নির্ভরশীল হতে হবে না।’

টাকা-পে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে কীভাবে ‘টাকা-পে’র সুবিধাটা সহজ করা যায়, সে ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রবাসীরা অনেক সময় বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মুদ্রায় কামাই করে। তারা সেখান থেকে ডলার কিনে দেশে পাঠাতে হয়। ন্যাশনাল কার্ড স্কিমের মাধ্যমে তিনি যাতে ওই দেশের মুদ্রা সরাসরি টাকায় পাঠাতে পারেন সে ব্যবস্থা সহজ করতে হবে।’

টাকা-পে’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাশনাল কার্ড স্কিম ‘টাকা-পে’ বাংলাদেশের জন্য একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতদিন আন্তর্জাতিক কোম্পানির মাধ্যমে কার্ড পরিচালনা হতো, অনেক খরচ হতো, অন্যের নিয়ন্ত্রণ থাকতো। এখন সব আমাদের দেশের মাধ্যমেই হবে। টাকা যেহেতু বাংলাদেশের। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশের। প্রায় সময় আন্তর্জাতিকভাবে বৈরি পরিবেশ হয়। সেক্ষেত্রে যেন আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাটা সচল থাকে, সেজন্যও এই পদক্ষেপ।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

‘টাকা পে’ কার্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম লেনদেন করবে রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।

ইত্তেফাক/এইচএ