একসময় বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে খেলতে হলে প্রতিপক্ষকে পরিকল্পনা করতে হতো দেশের স্পিনারদের নিয়ে। তবে সময় পরিবর্তন হয়েছে। এখন শুধু স্পিনারদের নিয়ে নয়, ভাবতে হয় টাইগার পেসারদের নিয়েও। আর টাইগারদের দলে এমন পরিবর্তন আনার কারিগর প্রোটিয়া পেসার অ্যালান ডোনাল্ড। তিনি দেখিয়েছেন সিমাররা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে দলের হয়ে।
যদিও এই টাইগার শিবিরে এই পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ ওটিস গিবসের সময় থেকেই।
সম্প্রতি বেশ সুনাম কুড়িয়েছিল বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং বিভাগ। যদিও ভারতে বিশ্বকাপে তেমন ছাপ রাখতে পারেনি তবুও বলা যায় উন্নতি এসেছে তাদের। গতকাল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের স্কোয়াডে স্পিনারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেসারদের দ্যুতি ছড়ানোর গল্প শুনিয়েছেন টাইগার পেস বোলিং কোচ ডোনাল্ড। এদিন আইসিসির প্রকাশিত ৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে তিনি বলেন দেশের সিমারদের মানসিকতা বদলানোর বিষয়টি।
ভিডিওতে ডোনাল্ডকে বলতে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশের সিমারদের রূপান্তর... আমি মনে করি এটা সবসময়ই ছিল। আমি মনে করি, গ্রুপে ও এককভাবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার মূল্যায়ন পাচ্ছি। আমাকে তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হয়েছিল যে আপনি প্রতিদিন সর্বত্র ফ্ল্যাট উইকেট পাবেন না। সারা বিশ্বের প্রতিটি বোলারের আগ্রাসনের মানসিকতা একই রকম। আমাদের বেশি গতিময় পেসার নেই, তবে আমাদের একঝাঁক দক্ষ পেসার রয়েছে। তারা প্রাণপণ চেষ্টা করছে এবং প্রচণ্ড আগ্রাসন নিয়ে।’
এ সময় ভিডিওতে দেখা যায়, বর্তমানে টাইগার স্কোয়াডের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদকে। তিনি বলেন, ‘দিনে দিনে আমাদের পেস বোলিং ইউনিট উন্নতি হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে আমরাও ভালো করছি। আমরা নিয়মিত উন্নতির জন্য কঠোর অনুশীলন করি। যার জন্য মানসিকতা পরিবর্তন প্রয়োজন যা তিনি করিয়েছেন আমাদের।’
এরপর ডোনাল্ডের প্রশংসা করতে দেখা যায় টাইগার হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকে। বলেন, ‘আমি মনে করি ডোনাল্ড খুব ভালো কাজ করেছে। আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে দেশের পেস বোলিং ইউনিটের। পাইপলাইনে আরো অনেক পেসার রয়েছে যারা ভবিষ্যতে আসতে পারে।’
এরপরই ডোনাল্ড শোনান টাইগারদের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অভিজ্ঞতা। বলেন, ‘মিরপুরে এসে আমি প্রথম যে কথাটি শুনেছিলাম তা হলো, স্পিনারদের দেশে স্বাগত। এখানে আমরা পেসারদের না, স্পিনারদের ওপর নির্ভর করে ম্যাচ জিতি। কিন্তু আমি সবসময় বিশ্বাস করতাম যে বাংলাদেশ যদি দেশের বাইরে ভালো পারফরম করতে চায়, সেখানে তারা সবসময় ভালো উইকেট পাবে, বাউন্সি পিচ পাবে যা স্পিনারদের জন্য সহায়ক হবে না যা বাংলাদেশে হয়। তবে বাংলাদেশে সিলেটেও এখন সেরকম ভালো উইকেট করা হয়েছে। পেসাররা এখন বিশ্বকে জানান দিচ্ছে, আমাদের পাঁচ পেসার আছে। এছাড়া এবাদত আর খালেদ আছে। এই সাত জন এখন আছে। তাছাড়া বেশ কয়েক জন তরুণ পেসার আছে যাদের ওপর আমরা নজর রাখছি। এখনকার এই সাত জনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ।’
