ছিনতাইকারীদের হাতে উবার চালক খুন
জামিউল আহসান সিপু
রহস্যজনক হত্যার ১৬ দিন পরও খুনের কারণ শনাক্ত হয়নি। ফলে কারা এ খুনের সঙ্গে জড়িত—সে বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এখনো অন্ধকারে। তবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়ি ছিনিয়ে নিতেই রাইড শেয়ারিংয়ের ‘উবার’ চালক মোহাম্মদ আরমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা।
তারা ভুয়া রেজিষ্ট্রেশন করা মোবাইল ফোন দিয়ে কল করে উবারের ঐ চালকের গাড়িতে ওঠে। এরপর উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের অন্ধকার রাস্তায় গিয়ে ভাড়া পরিশোধ করে নেমে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। এরপরই যাত্রীবেশী ঐ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যের মধ্যে সামনের আসনে বসে থাকা একজন সদস্য ধারালো ছুরি দিয়ে চালককে জবাই করে। এ সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার আইল্যান্ডে ধাক্কা দিলে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা নিরাপদে নেমে পালিয়ে যায়।
ডিবির উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, উবার চালক আরমান হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা ছিনতাকারী চক্রের সদস্য বলেই তদন্তে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেই সঙ্গে তাকে হত্যার কারণ অনুসন্ধানে ডিবি জানতে পেরেছে, অপরাধী চক্রের সদস্যরা তার গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তার পিছু নেয়। এরপর যাত্রীবেশে তাকে হত্যা করে।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে ডিবি সূত্র জানিয়েছে, গত ১৩ জুন রাত ১১টা ২১ মিনিটে উবারের কল পেয়ে যাত্রী নিয়ে রামপুরা ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে থেকে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডে আসেন চালক আরমান। এরপর রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে তিনি গাড়ির সিট বেল্ট বাঁধা অবস্থায়ই খুন হন। এই সময়ের মধ্যে শুধু গাড়ির উপরে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাবেয়া খানম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন কুমার সাহা বলেন, ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে তারা কোনো তথ্য পাননি। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি।
গাড়ির মালিকের ভাই গোলাম আলী অন্তর বলেন, আরমান দেড় বছর ধরে তাদের গাড়ি চালাত। ঐ রাতে (১৩ জুন) মিরপুরে তাদের গ্যারেজে গাড়ি জমা দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ছোট বোনের বিয়েতে যেতে চেয়েছিল সে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এর মধ্যে নিহতের মোবাইল ফোন রয়েছে। নিহত আরমানের গ্রামের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদীতে। তিনি মিরপুরের ১১ নম্বরে ১২ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর লেনের ১৬ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
