রাস্তায় দীর্ঘ যানজট, পর্যাপ্ত গণপরিবহনের অভাবের কারণে ঢাকা শহরে এক স্থান হইতে অন্য স্থানে পৌঁছাইতে বিলম্ব হইয়া থাকে। বাসের জন্য রৌদ্র-বৃষ্টি মাথায় লইয়া দাঁড়াইয়া থাকিতে হয়, ভাগ্যক্রমে বাস মিলিলেও আসন পাওয়া যায় না, আসন পাওয়া গেলেও আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি নড়িতে চাহে না। এই সকল কারণে রাইডশেয়ারিং ব্যবস্থা দেশে পরিচিতি লাভ করিবার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত জনপ্রিয় হইয়া উঠিয়াছে। মোবাইলে থাকা অ্যাপসের মাধ্যমে একটি মোটরবাইক ডাকিলে তাহা ফাঁকফোকর দিয়া, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাইয়া দেয়। এই ব্যবস্থায় একদিকে যাত্রী বাড়িয়াছে দ্রুত, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের জন্য হাজার হাজার যুবক মোটরবাইক লইয়া নামিয়া পড়িয়াছে অ্যাপসভিত্তিক এই কর্মসংস্থানের জন্য। এইটুকু পর্যন্ত বলিবার তেমন কিছু নাই। কিন্তু বাস্তবে এই রাইডশেয়ারিং ব্যবস্থা কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাথাব্যথার কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। বহুবিধ সমস্যা তৈরি হইয়াছে রাইডশেয়ারিংয়ের লক্ষাধিক মোটরবাইক লইয়া। যাঁহারা এই বাইক চালাইতেছেন, তাঁহাদের অনেকেই কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করিয়া যত্রতত্র, অর্থাত্ বিভিন্ন মোড়ে, বিভিন্ন সিগন্যালে দাঁড়াইয়া যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করিতেছেন। অথচ সরকারের রাইডশেয়ারিং নীতিমালায় বলা আছে, কোনো রাইডশেয়ারিং মোটরবাইক যাত্রী-সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত স্ট্যান্ড অথবা অনুমোদিত পার্কিং ব্যতীত রাস্তায় যেইখানে-সেইখানে অপেক্ষায় থাকিতে পারিবে না এবং যাত্রী উঠানামা ছাড়া রাস্তায় সর্বদা চলমান থাকিতে হইবে। এইসব রাইডশেয়ারিং মোটরবাইকের নিয়মকানুন না মানার কারণে রাস্তার অবস্থা জটিল হইতে জটিলতর হইয়া পড়িতেছে। অন্যদিকে জানা গিয়াছে, কোনো কোনো যাত্রী ও চালক যত্সামান্য লাভের আশায় অ্যাপস ব্যবহার না করিয়া চুক্তিতে চলাচল করিতেছেন। ফলে কোম্পানিগুলির কাছে ট্র্যাকিং রেকর্ড থাকিতেছে না, যাহা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইহার ফলে যাত্রী অথবা চালক যে কেহই এমনকি জীবনের ঝুঁকির সম্মুখীন হইতে পারেন। ইতোমধ্যে বেশকিছু দুর্ঘটনার সংবাদও পাওয়া গিয়াছে। এইদিকে নীতিমালা প্রণীত হওয়ার দীর্ঘ ১৭ মাস পর ১ জুলাই হইতে বিআরটিএ কোম্পানিগুলির নিবন্ধন দিতে যাইতেছে। কিন্তু বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ সহযোগী একটি সংবাদপত্রকে জানাইয়াছেন, আবেদন করা কোম্পানিগুলির কোনোটিই নিবন্ধনের শর্ত পরিপূর্ণ করিতে পারে নাই। উল্লেখ্য, অ্যাপসভিত্তিক ১৬টি কোম্পানি বিআরটিএ বরাবর নিবন্ধনের আবেদন জানাইয়াছে।
শুধু নিবন্ধিত হইলেই হইবে না, রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলিকে রাইডারদের প্রতি কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখিতে হইবে। প্রশিক্ষণহীন এইসব রাইডারের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করিতে হইবে। সেইসঙ্গে চলাচলের সকল নিয়মকানুন সম্পর্কে তাঁহারা যেন অবহিত থাকেন, তাহা নিশ্চিত করিতে হইবে। সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নজরদারি বাড়াইতে হইবে, যাহাতে কোনোভাবেই তাহারা যত্রতত্র জটলা না পাকাইতে পারে। সর্বোপরি শেয়ারকারীদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন সর্বাধিক। রাইডশেয়ারিং ব্যবস্থা শৃঙ্খলার সঙ্গে চলিলে সকলেই উপকৃত হইবে, রাস্তায় শৃঙ্খলাও খানিকটা আসিবে এবং রাইডের যাত্রীরা নির্ভয়ে পথে চলাচল করিতে পারিবে।
