বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

২২ দিনের অপেক্ষা শেষ, ইলিশ ধরতে রাতেই জেলেদের সমুদ্রযাত্রা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৩, ২২:০৭

ইলিশ প্রজননে ২২ দিন শিকার বন্ধ থাকায় নীরব-নিস্তব্ধ উপকূলীয় মৎস্যবন্দর আবার সরব হয়ে উঠেছে। ইলিশ আহরণের নিষেধাজ্ঞার নির্ধারিত সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত। এর পরই জেলেরা ছুটছেন সমুদ্র পানে। পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ অবসর সময় কাটিয়ে মাঝি-মাল্লারা এখন ভিড় করেছেন মহাজনদের আড়তে। ট্রলারে জ্বালানি তেল, বরফ ও রসদ তুলে সবাই সাগরযাত্রা করেছেন।

জাতীয় মাছ রক্ষায় ১০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর এই ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে সরকার। মা ইলিশ রক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন সময় বিবেচনা নিয়ে আশ্বিন মাসের পূর্ণিমাকে ভিত্তি ধরে মৎস্য সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধের এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাথরঘাটার আলমগীর মাঝি, সেলিম নাজির, আলম ফিটার, জাকির মাঝি, কালাম খান জানান, নিষেধাজ্ঞার আগের দিন অর্থাৎ ০৯ অক্টোবর সাগর থেকে ফিরে আসেন তারা। পরের দিন বাড়ি চলে যান। এ দীর্ঘ সময়টা ট্রলার ও জাল মেরামতের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গেই কাটিয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের ট্রলারে থাকেন মোট ১৭ জন জেলে। সবাই সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে মহাজনের আড়তে ফিরেছেন। 

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম আকন জানান, নিষেধাজ্ঞা সময়ের মধ্যে জাল, ট্রলার মেরামত করে সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অবরোধের শেষ দিন। মধ্য রাতেই সাগরের উদ্দেশে রওনা হবে উপকূলের ট্রলারগুলো।

উপকূলীয় জেলের জানান, ৬৫ দিনের অবরোধের পর বার বার বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ঘাটে ফিরে এসেছে তারা। সে সময় আশানুরূপ ইলিশ শিকার করতে পারেনি তারা। তবে এবার বিগত দিনের লোকসান পুষিয়ে কাঙ্খিত ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরবেন এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

জেলে মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বিগত বছরের মতো এবারও বরগুনার জেলেরা সরকারের নির্দেশ যথাযথ ভাবে পালন করেছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কোনো জেলেকে নদী-সাগরে জাল ফেলতে দেখা যায়নি। 

তিনি আরও বলেন, ইলিশ প্রজনন ঘটাতে সরকার সফল। এখন জাটকা রক্ষা করতে পারলে আগামীতে ইলিশ আরও কয়েকগুণ বাড়বে।

পাথরঘাটা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, নিষেধজ্ঞার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসাধু জেলেদের ইলিশ শিকারের খবর পাওয়া গেলেও পাথরঘাটা তার ব্যতিক্রম। এখানকার কোনো জেলে নিষিদ্ধ সময়ে নদী-সাগরে জাল ফেলেনি। জেলে, মহাজনসহ সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় এবারের অবরোধ সফল হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, সারাবিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশ আহরিত হয় বাংলাদেশের নদ-নদী, মোহনা ও সাগর থেকে। বিগত ১০ বছরে ইলিশ উৎপাদনের গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। ৬ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ জাতীয় এ মাছ পরিবহন, বিক্রি, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। আর দেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে, যা একক প্রজাতি হিসেবে সর্বোচ্চ। জিডিপিতে এর অবদান শতকরা ১ ভাগ।

ইত্তেফাক/পিও