ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ২২:১২

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে। কারণ ব্যাংকে উচ্চহারে সুদ থাকলে শিল্পখাত ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিকশিত হয় না। আর খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা যুগোপযোগী। গতকাল শনিবার বিকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের ওপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এদিকে গতকাল বিকালে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে অর্থবিল-২০১৯ পাশের প্রস্তাব উত্থাপনের পর জনমত যাচাই-এর প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে সেই টাকাগুলো কোথায় রেখেছে খোঁজ নিলেই সুইচ ব্যাংকের হিসাবটা মিলে যাবে। বিএনপির সংসদ সদস্য বলেছেন টাকা সুইচ ব্যাংকে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি একটা আসনের বিপরীতে ২/৩ জনের অধিক মনোনয়ন দিয়ে যে বাণিজ্য করল সেই টাকাগুলো তারা কোথায় রাখল? আর বাংলাদেশ যদি কল্যাণ রাষ্ট্রই না হবে, দারিদ্র্যমুক্ত না হবে, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা না পৌঁছায়—তবে দেশের এত উন্নয়ন-অগ্রগতি হলো কীভাবে? বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় তাঁর অনুরোধে এবারই  প্রথম অর্থবিল পাশের প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাজেটের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও সুষম বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই বাজেটে দেশের জনগণ উপকৃত হবে।  জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দেশে চলমান উন্নয়নের গতিধারা ও দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার সর্ববৃহত্ বাজেট দেওয়া হয়েছে। গত ১০ বছরে সারাদেশেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা দুই মেয়াদে দেশের উন্নয়ন-সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের গড় আয়ু ৬৫ থেকে ৭২ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, মানুষের মাথাপিছু আয় ৫৪৩ থেকে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অতি দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১১ ভাগে নামিয়ে এনেছি, ৪৫ ভাগ দারিদ্র্যকে ২১ ভাগের নীচে নামিয়ে আনতে পেরেছি।

মানুষের আস্থা-বিশ্বাস বেড়েছে:প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপের ফলে আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা-বিশ্বাস আরো বেড়েছে। গত নির্বাচনে এর প্রমাণ হয়েছে। চতুর্থবারের মতো দেশের মানুষের সেবা করার জন্য জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ অব্যাহত রাখা হবে। কওমী মাদ্রাসাকে মূল শিক্ষার ধারায় ফিরে এনেছি। এরাও শিক্ষা শেষে দেশে-বিদেশে চাকরি পাবে।

তারুণ্যের শক্তির প্রাধান্য: তারুণ্যের শক্তিকে সবচেয়ে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাজেটে কর্মসংস্থান বাড়াতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। যুব সমাজের উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব অত্যন্ত যুগোপযোগী। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে শতকরা ২ ভাগ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, এতে প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে আরো বেশি অনুপ্রাণিত হবে। এক দশকে কৃষিখাতের উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি এবং এ খাতে ব্যাপক সাফল্য এসেছে।  বর্তমান সরকারের গৃহীত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তাছাড়া এখন দেশের ৯৩ ভাগ জনগণ বিদ্যুত্ সুবিধা পাচ্ছে।

গণফোরামের সদস্য মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সংসদ নেতা বলেন, উনি এক লাখ অটোমেশন মেশিন উপহার দেবেন। আমরা গ্রহণ করলাম। এখানে জনমত যাচাইয়ের কোনো প্রয়োজন নেই। খেলাপী ঋণ নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্যের ক্ষোভের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাপী ঋণের সংস্কৃতিটা এই দেশে সামরিক শাসন এনেছে। এই সামরিক শাসন কীভাবে এসেছে? জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সেনা আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে সামরিক শাসক ক্ষমতা দখল করে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর যখন দল গঠন করতে গেল তখন কিছু  লোককে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিতে গিয়ে ব্যাংক থেকে অকাতরে ঋণ নেওয়া এবং ঋণ পরিশোধ না করার সংস্কৃতির সৃষ্টি।

কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় মানুষের অপ্রত্যাশিত কিছু অর্থ আসে। কিন্তু এই অপ্রত্যাশিত অর্থটা কোনো কাজে লাগানো যায় না। তাদের যদি একটা সুযোগ দেওয়া হয়, যেন এই টাকাটা মূল ধারায় চলে আসে এবং সেটা জনগণের কাজে দেবে। কোথায় গুঁজে রাখবে বা বিদেশে পাচার করছে সেটাও একটু খতিয়ে দেখা দরকার। সেজন্য সুযোগটা দেওয়া হচ্ছে।