অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ অবশ্যই পারবে। চায়না, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া যদি পারে, বাংলাদেশ কেন পারবে না। নতুন বাজেট যে দর্শনের ভিত্তি দিয়েছে তা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ ঋণ নেবে না, ঋণ দেবে।
শনিবার জাতীয় সংসদে বাজেট ও অর্থবিলের ওপর আলোচনায় তিনি একথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি হচ্ছে আগামীর স্বপ্ন পূরণের ফাউন্ডেশন। এই বাজেট প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা নিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে। এই বাজেট শুধু এক বছরের জন্য নয়। এটির সুফল পাওয়া যাবে ২০৪১ সাল পর্যন্ত। সে কারণেই আমরা বলেছি, সময় এখন আমাদের—সময় এখন বাংলাদেশের।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে পেছনে নিয়ে যাওয়ার কোনো শক্তি এখন আর নেই। তিনি চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, তারাও এক সময় দরিদ্র ছিল। জনগোষ্ঠীর সবাই খাবার খেতে পারত না। অথচ তারা আজ উন্নত দেশে নিজেদেরকে পরিণত করেছে। তারা যদি পারে, আমরা কেন পারব না। সবার সহযোগিতা পেলে এটি দুঃসাধ্য কাজ নয়। অর্থমন্ত্রী সবার সহযোগিতা আশা করে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ যেদিকে এগিয়ে যাবে, তাতে ২০৩০ সালে বিশ্বের কাছ থেকে আমাদের ঋণ নিতে হবে না। বরং আমরা ঋণ দিতে পারব। তিনি এ সময় বলেন, আমাদের ঋণের পরিমাণ জিডিপির পাঁচ শতাংশ। মালয়েশিয়ায় এর চেয়ে বেশি।
মুস্তফা কামাল বাজেট উপস্থাপনের সময় ও পরে নিজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তাকে সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাজেটটি সহজপাঠ করেছি। করের হার না বাড়িয়ে, পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বাজেটটির কাঠামো দিয়ে আমরা ২০৪১ সাল পর্যন্ত চলতে পারব। প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা হয়। গতকাল অর্থবিলের ওপর আলোচনা এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।
