একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়েছে ২১৩টি কেন্দ্রে। নির্বাচনে ১১টি কেন্দ্রে ১০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। সম্প্রতি ওয়েবসাইটে নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত কেন্দ্রভত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এতথ্য পাওয়া গেছে। এবারের নির্বাচনে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট কেন্দ্র ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, মাঠ পর্যায় থেকে নির্বাচলের ফলাফল যেটি এসেছে হয়তো সেটি প্রকাশ করা হয়েছে। অথবা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশের সময় ভুল ত্রুটি হতে পারে আবার নাও হতে পারে।খোঁজ জানতে হবে-এ বিষয়ে এখনি বিস্তারিত বলতে পারবো না।
গত সপ্তাহের মাঝামাঝি ৩০০ আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ভোটের পরই স্থানীয়ভাবে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসব ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। ইসির ওয়েবসাইটে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল-কেন্দ্র, মোট ভোটার, প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট, বৈধ ভোট, বাতিল ভোট, প্রদত্ত ভোট, শতকরা হার দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৪১ হাজার ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পেড়েছে। আর ৯০ থেকে ৯৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে সাত হাজার ৬৮৯টি কেন্দ্রে। যার মধ্যে কেবল ৯৯ শতংশ বা তার বেশি ভোট পড়েছে ১২৭ কেন্দ্রে। এছাড়া ৮০ থেকে ৮৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ১৫ হাজার ৭১৯টি কেন্দ্রে। ৭০ থেকে ৭৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ১০ হাজার ৭৩টি কেন্দ্রে, ৬০ থেকে ৬৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩ হাজার ৯২০টি কেন্দ্রে, ৫০ থেকে ৫৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ১ হাজার ৬১০টি কেন্দ্রে, ৪০ থেকে ৪৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ৫৯৯টি কেন্দ্রে, ৩০ থেকে ৩৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ২২২টি কেন্দ্রে, ২০ থেকে ২৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ৭৯টি কেন্দ্রে, ১০ থেকে ১৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ২০টি কেন্দ্রে এবং ১০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে ১১টি কেন্দ্রে। একক জেলা হিসেবে শতভাগ ভোট পড়া কেন্দ্র ছিলো রংপুর। এ জেলার ২৭টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। অপরদিকে একক আসন হিসেবে রংপুর-৫ আসনের ৯টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ে।
৩০০ আসনের ৪০ হাজার ১৫৫ কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ১০ কোটি ৪১ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৯ জন। এরমধ্যে ভোট পড়েছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৯১১টি। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বৈধ ভোট ৮ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ ভোট। আর বাতিল হয়েছে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৯০ ভোট। নির্বাচনে ৪১ হাজারের বেশি কেন্দ্রে মধ্যে শতভাগ ভোট পড়া কেন্দ্রের মোট ৫ লাখ ৪৭ হাজার ১২১ ভোটের মধ্যে বৈধ ভোট ছিলো ৪ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৭। বাকি ৮২ হাজার ৮৬৪ ভোট ছিলো অবৈধ।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, এসব কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়লেও সবগুলোই বৈধ ভোট ছিল না। বাতিল ভোট রয়েছে অনেক। সেক্ষেত্রে ওইসব ভোট কেন্দ্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করা বা অভিযুক্ত ভোট বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা।
শতভাগ ভোট পড়া কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর-১ আসনে চারটি, দিনাজপুর-২ আসনে তিনটি, দিনাজপুর-৪ আসনে দুটি, দিনাজপুর-৬ আসনে একটি, নীলফামারী-৩ আসনে একটি, লালমনিরহাট-১ আসনে দুটি, লালমনিরহাট-৩ আসনে ছয়টি, রংপুর-১ আসনে দুটি, রংপুর-২ আসনে সাতটি, রংপুর-৪ আসনে তিনটি, রংপুর-৫ আসনে নয়টি, রংপুর-৬ আসনে ছয়টি, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে দুটি, গাইবান্ধা-৪ আসনে চারটি, বগুড়া-১ আসনে দুটি, বগুড়া-২ আসনে একটি, বগুড়া-৫ আসনে দুটি, চাপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে তিনটি, নওগাঁ-২ আসনে দুটি, নওগাঁ-৩ আসনে চারটি, নওগা-৪ আসনে তিনটি, রাজশাহী-৬ আসনে দুটি, নাটোর-১ আসনে একটি, সিরাজগঞ্জ-১ একটি, সিরাজগঞ্জ-২ একটি, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে তিনটি, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে একটি,সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে একটি, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে তিনটি, মেহেরপুর-২ আসনে একটি, যশোর-৩ আসনে একটি, বাগেরহাট-২ আসনে একটি, খুলনা-৬ আসনে একটি, বরিশাল-১ আসনে দুটি, বরিশাল-৩ আসনে একটি, টাঙ্গাইল-৫ আসনে একটি, টাঙ্গাইল-৬ আসনে একটি, জামালপুর-৪ আসনে তিনটি, শেরপুর-১ আসনে দুটি, ময়মনসিংহ-১ আসনে একটি, ময়মনসিংহ-২ আসনে চারটি, ময়মনসিংহ-৪ আসনে একটি, ময়মনসিংহ-৬ আসনে দুটি, ময়মনসিংহ-৭ আসনে একটি, ময়মনসিংহ-৮ আসনে দুটি, ময়মনসিংহ-৯ আসনে একটি, ময়মনসিংহ-১০ আসনে চারটি, ময়মনসিংহ-১১ আসনে একটি, নেত্রকোনা-৫ আসনে একটি, মানিকগঞ্জে-১ আসনে একটি, মানকিগঞ্জ-২ আসনে তিনটি, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে দুটি, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে দুটি, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে তিনটি, ঢাকা-১, ঢাকা-৪, ঢাকা-১২ ঢাকা-১৮ ঢাকা-১৯ ও ঢাকা ২০ আসনে একটি করে, গাজীপুর-১ আসনে তিনটি, গাজীপুর-২ আসনে একটি, গাজীপুর-৩ আসনে একটি, নরসিংদী-৩ আসনে তিনটি, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে একটি, ফরিদপুর-২ আসনে দুটি, মাদারীপুর-১ আসনে একটি, মাদারীপুর-২ আসনে একটি, সুনামগঞ্জ-২ আসনে একটি, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে দুটি, সিলেট-১ আসনে দুটি, সিলেট-৩ আসনে দুটি, সিলেট-৪ আসনে চারটি, সিলেট-৫ আসনে একটি, সিলেট-৬ আসনে একটি, মৌলভীবাজার-৩ আসনে দুটি, হবিগঞ্জ-৩ আসনে একটি, হবিগঞ্জ-৪ আসনে একটি, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আটটি, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে দুটি, কুমিল্লা-১, কুমিল্লা-৭ ও কুমিল্লা-১০ আসনে একটি করে, চাঁদপুর-৩ আসনে তিনটি, ফেনী-১ আসনে একটি, ফেনী-২ আসনে একটি ও ফেনী-৩ আসনে দুটি, নোয়াখালী-২ আসনে একটি, নোয়াখালী-৬ আসনে একটি, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে একটি, চট্টগ্রাম-৫ আসনে চারটি, চট্টগ্রাম-৮ আসনে সাতটি, চট্টগ্রাম-১০ আসনে দুটি, চট্টগ্রাম-১১ আসনে একটি, চট্টগ্রাম-১২ আসনে একটি, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে দুটি, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে একটি, কক্সাবাজার-১ আসনে তিনটি, কক্সাবাজার-২ আসনে দুটি, কক্সাবাজার-৩ আসনে চারটি, কক্সাবাজার-৪ আসনে একটি, খাগড়ছড়িতে একটি ও বান্দরবানে একটি কেন্দ্রে।
সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৬ কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার ২১৩ ভোট পেয়েছে। এটি দেশের মোট ভোটারের ৫৯ দশমিক শূণ্য ৭ শতাংশ এবং কাস্টিং ভোটের ৭৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিএনপি পেয়েছে ৯৯ লাখ ৮৫ হাজার ২০২ ভোট। এটি মোট ভোটারের ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ আর কাস্টিং ভোটের ১২ দশমিক ১১ শতাংশ। এছাড়া কাস্টিং ভোটের ১ দশমিক ৮২ শতাংশ পেয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বাকি ৩৬টি দল পেয়েছে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ ভোট।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আলমগীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা যা ফলাফল পেয়েছি তাই ওয়েবসাইটে দিয়েছি।
