ফিরোজের বিচ্ছিন্ন হাত আর জোড়া লাগবে না

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ২২:২২

নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালিতে ট্রাক ও বাসের প্রতিযোগিতার শিকার হয়ে কনুই থেকে ডান হাত হারানো রাজশাহী কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফিরোজ (২৫) এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। তবে বিচ্ছিন্ন হওয়া তার হাতটি আর শরীরের সঙ্গে জোরা লাগানো সম্ভব নয় বলেও জানান তারা। শনিবার বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এদিকে যে গাড়ির চাপায় তার হাতটি বিছিন্ন হয়েছে তা এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঐ গাড়িটি বাস না ট্রাক ছিল পুলিশ সেটিও নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে ফিরোজ যে বাসের যাত্রী ছিলেন সেটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে ফিরোজের ক্ষতিপূরণ ও দোষী ড্রাইভারের শাস্তির দাবিতে গতকাল মানববন্ধন করেছে রাজশাহী কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে কলেজ থেকে ফিরোজের চিকিত্সার ব্যয় বহনের কথা জানিয়েছেন অধ্যক্ষ মহা. হবিবুর রহমান।

ফিরোজের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফিরোজের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। সে এখন স্বাভাবিক কথাবার্তা বলছেন। আপাতত কোনো শঙ্কা নেই।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন হওয়া ওই হাতটি জোড়া দেওয়ার সুযোগ আমাদের দেশে নেই। পরে তিনি কৃত্রিম হাত লাগাতে পারবেন। এছাড়া উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ারও প্রয়োজন নেই। দেশেই তার সুচিকিত্সা সম্ভব বলে জানান তিনি।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া জোনের অতিরিক্ত সহকারী কমিশনার আব্দুল রশিদ বলেন, মোহাম্মাদ আলী ট্রাভেলস নামের একটি বাসের যাত্রী ছিলেন ফিরোজ। সেটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তবে বিপরীত দিক থেকে যাওয়া যে গাড়িটির চাপায় ফিরোজের ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সেটি বাস না ট্রাক বা অন্য গাড়ি তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ফিরোজও কিছু বলতে পারেননি। তবে যে বাসে ফিরোজ ছিলেন সেটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলে তিনি পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন।

আরএমপির কাটাখালি থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, এ ঘটনাটি কাটাখালি থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়রি (জিডি) করে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ড্রাইভারকে আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানববন্ধন:বাসের যাত্রী ফিরোজের হাত বিচ্ছিন্নের ঘটনার প্রতিবাদে এবং ড্রাইভারের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবিতে রাজশাহী কলেজের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কলেজের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মহা. হবিবুর রহমান। এ সময় তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষী ড্রাইভারদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি ও ফিরোজের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। একই সঙ্গে ফিরোজের চিকিত্সার ব্যয় কলেজ থেকে বহনের ঘোষণা দেন।

পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ৩০ জুন ফিরোজের একটি পরীক্ষা ছিল। কিন্তু তার পরীক্ষা দেওয়ার কোনো অবস্থা নেই। সে ডান হাতে লিখতো। তবে সে চাইলে নিচের ক্লাসের একজন শ্রুতি লেখকের সাহায্য নিয়েও পরীক্ষা দিতে পারবে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রামের বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী ট্রাভেলস নামের একটি বাসে রাজশাহী শহরে ফিরছিলেন রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফিরোজ হোসেন। ৩০ জুন তার চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা। যে হাত দিয়ে পরীক্ষা দেবেন সে হাত হারিয়ে তিনি এখন রামেক হাসপাতালে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে অনিশ্চিত জীবনের কথা ভাবছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় রাজশাহীর কাটাখালি পৌরসভার সামনে অন্য একটি গাড়ির চাপায় তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এদিকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন আরএমপির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস। গুরুতর আহত ফিরোজ বগুড়ার নন্দীগ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। তিনি রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।