রকিবুলের সাফ কথা

ব্যর্থতার তদন্ত করতে হবে

‘আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। দেশের জন্য খেলেছি। ক্যাপ্টেন ছিলাম। খারাপ কিছু হলে আমার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়। আমার কথা হচ্ছে লড়াই করো। প্রতিপক্ষ যদি বেটার খেলে তাহলে তাকে স্যালুট দাও। আমি যেটা পারি, আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব। দেখা গেল কী, মাঠে নেমে নার্ভাস। তাহলে এত বড় জায়গায় খেলতে গেলাম কেন।’ 

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৩, ১২:৩০

অস্ট্রেলিয়া কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়, এবার বিশ্বকাপ হলো ভারতের। বাংলাদেশের মতোই আবহাওয়া যেখানে। ক্রিকেটের ভাষায় কন্ডিশন বলতে যা বুঝায়, বাংলাদেশ এবং ভারতের কন্ডিশন একই। তাহলে কেন বাংলাদেশ বিশ্বকাপের বাইশ গজে লুটিয়ে পড়ল। লেজেগোবরে করে ফেলল। বিশ্ব মঞ্চে গর্বের ক্রিকেট এতটা লজ্জায় ফেলল কেন। তাহলে কি টাইগাররা শুধু দেশেই বাঘের গর্জন দেয়। দেশে অতিথি দল এনে সিরিজ জিতল আর বাহবা পেল, অভিনন্দনে ভাসল, হয়ে গেল বিশ্ব জয়? 

ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ যে কতটা দুর্বল অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, তার খোঁজখবর ক্রিকেট বোর্ডও বোধহয় রাখেনি। সব দেশ বিশ্বকাপের অনেক আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করল আর বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকল। কেন শেষ দিনে এসে দল ঘোষণা করতে হলো। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসানের এই প্রশ্ন চার মাস আগে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। সেটা হলো শেষ দিনে। তার মানে হচ্ছে বিশ্বকাপ নিয়ে কী বাংলাদেশের কোনো প্রস্তুতি ছিল না।’

সেমিফাইনালে খেলবে বলে কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে অধিনায়ক সাকিব, সহ-অধিনায়ক কর্মকর্তারা খেলোয়াড়, সবাই বলেছেন। সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়ে এক ম্যাচ জিতে বাকি ৬ ম্যাচ হারতে হয়েছে। রকিবুল হাসান বলছেন, ‘এখন আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা হতো, বাংলাদেশ বিপদে পড়ে যেত।’ বাংলার ক্রিকেটারদের ছিন্নভিন্ন চেহারা দেখে বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গন বলছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়টা নাকি অঘটন।

বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে সবকিছুর তদন্ত করতে হবে। কেন এই ব্যর্থতা, কেন ড্রেসিং রুমের এই চিত্র, অধিনায়ক এবং কোচ কেন দল নিয়ে কাটাছেঁড়া করেছেন, পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন। তদন্তের দাবি সাবেক অধিনায়কের। রকিবুল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং টিম করতে হবে। কী ভুল হয়েছে বের করতে হবে। বিশ্বকাপে ডিজাস্টার হয়েছে। কোনো প্রস্তুতিই হয়নি। একবার দুয়ে, একবার ১-এ খেলানো, সেঞ্চুরি করা ৬ নম্বরে খেলে সেঞ্চুরি করা রিয়াদকে পরের ম্যাচে ৭ নম্বরে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এতেই প্রমাণ করে আপনি (কোচ হাথুরুসিংহে) নিজেই সিওর না, কী করবেন। আমরাও নিশ্চিত না কে খেলবে, কে খেলবে না।’ তবে এরই মধ্যে বিসিবি থেকেও নাকি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সেটা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

সিনিয়র প্লেয়ারদের কোণঠাসা করতে গিয়ে যা করেছেন তার দায়দায়িত্ব নিতে হবে। একাদশ গঠনে এত বেশি কাটছাঁট করেছেন কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে এবং অধিনায়ক সাকিব আল হাসান যে, কোনো ক্রিকেটার কখন নামবেন সেটা সেই ক্রিকেটের নিজেও জানতেন না। এসব চিত্র বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হাস্যরসে পরিণত করেছে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী কমেন্ট্রি বক্সে বসে বলেছেন বাংলাদেশ নাকি ড্রেসিং রুমে বসে টস করে, কার পরে কে নামবেন।’ কতটা লজ্জাস্কর।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় রকিবুল হাসান দুষছেন দলের কোচ হাথুরুসিংহেকে। এই কোচ এর আগে একবার বাংলাদেশ দলকে মাঝপথে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। সেই কোচ কখনোই বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারে না এমন বিশ্বাস রকিবুলের। তিনি বলেছেন, ‘আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। দেশের জন্য খেলেছি। ক্যাপ্টেন ছিলাম। খারাপ কিছু হলে আমার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়। আমার কথা হচ্ছে লড়াই করো। প্রতিপক্ষ যদি বেটার খেলে তাহলে তাকে স্যালুট দাও। আমি যেটা পারি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব। দেখা গেল কী, মাঠে নেমে নার্ভাস। তাহলে এত বড় জায়গায় খেলতে গেলাম কেন।’ 

হাথুরুসিংহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো না সে কথা অনেক আগে থেকে বলে আসছিলেন কিন্তু বিসিবি তার কথায় কান দেয়নি। কেন রকিবুল এ কথা বলছেন তা শুনেও খতিয়ে দেখেনি। বিসিবিতে একটা পক্ষ আছে তারা হাথুরুসিংহের পেছনে মাসে ত্রিশ-পয়ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয় করতে রাজি। কিং ফায়দা পাচ্ছেন সেটা বড় কথা না। এসব কথা বিসিবিতে ভেসে বেড়ালেও নীতিনির্ধারকদের নজর না দেওয়াটাও একটা রহস্য। 

সাকিব-তামিম বিতর্কে রকিবুল হাসান তামিমের প্রশংসা করেছেন রকিবুল। ওপেনার তামিমকে জাতীয় দলে প্রয়োজন ছিল। তাকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় কথা বলেছেন সাকিব। তামিমের নাম ধরেই কথা বলেছেন সাকিব। রকিবুল প্রশ্ন করলেন, ‘তাহলে সাকিব কেন (বাদ দেওয়ার ব্যাপারে) এটা করল। তামিম তো কারো নাম বলেনি। তামিম একটা কথা বলে মানুষের মনে ঢুকে গেছে। কী বলেছে—আমাকে ভুলে যেও না। আমাকে মনে রেখ। তামিম কারো নাম দিয়ে অভিযোগ করেনি। যেটা সাকিব করেছেন। সাকিব দলটাকে নেতৃত্ব দিতে পারেননি। রাত দেড়টায় খেলোয়াড়দের ডেকে নিয়ে টিম মিটিং করেন। সাকিবের কী মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি।’  

ইত্তেফাক/জেডএইচ