মাদারীপুরে অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজসহ সবজির দাম। বাড়তি দামে এসব পণ্য কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। এ অবস্থায় অনেকে পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
রোববার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার, চরমুগরিয়া, ইটেরপুল, মোস্তফাপুর, রাজৈর, টেকেরহাটসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে দোকানিরা চাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপণ্য অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলেও নেই কোন নজরদারি। এতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ী চক্র।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, লিটারপ্রতি ভোজ্যতেল পাম অয়েল ১৪০-১৪৫ টাকা, সুপার তেল ১৪৫-১৫০ টাকা, ১ নম্বর সয়াবিন তেল ১৭০ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৬-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল ১৩০-১৩৫ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ১০৫-১০০ টাকা, ফাঁটি মসুর ডাল ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি মুগ ডাল ১১০-১২০ টাকা, খেসারি ৯০-৯৫ টাকা ও বুটের ডাল ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১৩০ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।
হাজিরহাওলা থেকে পুরানবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা আমির হোসেন বলেন, ‘আয়ের চেয়ে এখন ব্যয় বেশি। একজন দিনমজুর তিন দিনে যা আয় করে, একদিনের বাজারেই তা শেষ হয়ে যায়।’
কালকিপুর থেকে আসা আরেক ক্রেতা কালা মিয়া শরীফ বলেন, ‘সব জিনিসের দামই বেশি। তেল, ডাল, চিনি, চালসহ কোন পণ্যের দামই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। যাদের আয় কম, তাদের বাজার করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’
শহরের পুরানবাজারের বিক্রেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বাজারে কেনাবেচা একই রকম আছে। ক্রেতারা তো অভিযোগ দিবেই। তবে কোন দোকানি কখনই বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে না।’
আরেক মুদি দোকানি জাকির হোসেন বলেন, ‘নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য ও বাজারের সঙ্গে মিল রেখেই কেনাবেচা করছি। কোন পণ্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে না।’
টেকেরহাট বন্দরের মুদি ব্যবসায়ী তপন কুমার বলেন, ‘তেল, চাল, ডাল, ডিম, পেঁয়াজ, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য উর্ধ্বগতির দিকে। এর মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার গুঞ্জনে ভোক্তাদের মনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। লিটারে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। তবে বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।’
হাট-বাজার মনিটরিং করার দায়িত্বে থাকা মাদারীপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন, ‘জনবল কম থাকায় অনেক সময় অভিযান পরিচালনা করতে বেগ পেতে হয়। তারপরও ক্রেতাদের সুবিধার্থে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘ক্রেতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হয়। কোন বিক্রেতা যদি বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
