বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

রাজধানীতে এখনো উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য

১০ কোটি টাকার ওয়েস্টবিন গায়েব

জায়গাসংকটের কারণে হচ্ছে না এসটিএস প্রকল্পের নির্মাণকাজ

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৩, ১০:২৬

রাজধানীর সড়ক থেকে এখনো সরছে না যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুই সিটি করপোরেশন কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও এখনো পুরোপুরি মিলছে না সুফল। সড়কে প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ করে ওয়েস্টবিন বসানোর পুরো টাকাই গচ্চা গেছে। যে ওয়েস্টবিনের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের কাজ চলছে। তবে এখনো অনেক ওয়ার্ডই এই প্রকল্পের বাইরে রয়ে গেছে। জমি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এসব ওয়ার্ডে সড়কের ওপরেই ফেলা হচ্ছে বর্জ্য।

২০১৬ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) তাদের আওতাধীন এলাকায় বিভিন্ন সড়কের ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য ১ হাজার বিন স্থাপন করে, যার খরচ পড়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) তাদের আওতাধীন এলাকায় ১০ হাজার ২৬০টি বিন স্থাপন করে, যাতে খরচ হয় প্রায় ৯ কোটি টাকা। বর্তমানে এসব বিনের কোনো অস্তিত্ব নেই। বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করে এই প্রকল্প নেওয়া হলেও এটি কোনো সুফল বয়ে আনেনি।

বর্তমানে বাসাবাড়ির বর্জ্য এনে বর্জ্যঘর বা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি ৫৪ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২টি ওয়ার্ডে এসটিএস নির্মাণ করেছে। আর বাকি ২২টি ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণ করার মতো ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। এর মধ্যে অনেক এলাকায় সড়কের ওপরই বর্জ্য রাখা হচ্ছে। সেগুলো সড়ক থেকেই ট্রাকে তোলা হয়। সড়কের পাশে এমনতর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড মিরপুর ৬০ ফিট রোডে এখনো বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। বর্জ্যগুলো ভ্যান থেকে ট্রাকে তোলা হয় সড়কের মধ্যেই। এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল মোল্লা বলেন, ‘আমাদের এখানে জমির সংকটের কারণে এতদিন এসটিএস নির্মাণ হয়নি, যে কারণে এভাবেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চলছে। তবে এখন একটি জমি আমরা নির্ধারণ করেছি। আশা করছি, সিটি করপোরেশন সেখানে এসটিএস নির্মাণ করলে এক বছরের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে।’

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতে এসটিএস নির্মাণ করা হয়েছে। তিনটিতে নির্মাণ চলছে। বাকি ৯টি ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হচ্ছে উন্মুক্ত স্থানে। উন্মুক্ত কনটেইনারে রাখা হচ্ছে বর্জ্য অথবা যত্রতত্র পড়ে থাকছে ময়লা-আবর্জনা। আর এসটিএস নির্মাণে দুই সিটি করপোরেশন এরই মধ্যে ব্যয় করেছে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে জমি অধিগ্রহণ করে এসটিএস নির্মাণের মাধ্যমে সড়কের ওপর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে সরে আসতে হবে। এক্ষেত্রে যত্রতত্র এসটিএস নির্মাণ করা যাবে না। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের আশপাশে। এতে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৬৩টি ওয়ার্ডে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণ করেছি। তিনটি ওয়ার্ডে কাজ চলমান। আর ৯টি ওয়ার্ডে জায়গা সংকটের কারণে বিলম্ব হচ্ছে। সে সব ওয়ার্ডে সড়কের পাশে কনটেইনার স্থাপন করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/এমএএম