হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস বলেছেন, পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিত্ হত্যার ভিডিও ফুটেজ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনায় নিয়েই ওই মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে টিভি রিপোর্টিংগুলো বিবেচনায় নেওয়ার কারণেই ঐ দণ্ড বহাল রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, যারা ঐ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল তারা কেউ ঘটনা দেখেনি বা ঘটনা দেখলেও সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তারা কেউ কিছু বলে নাই। এমনকি তারা অভিযুক্তদের চিহ্নিত বা তাদের নামও বলতে পারে নাই। আর একথাগুলো এত কর্তৃত্ব নিয়ে বলছি এ কারণে যে, বিশ্বজিত্ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের রায় হাইকোর্টে আমিই দিয়েছি। ঐ রায়ের অথর জাজও আমি। ‘সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিযুক্তদের সুরক্ষার অধিকার’ শীর্ষক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ল এন্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস বলেন, মানুষ যে সমাজে বাস করে সেই সমাজটাই তার কাছে একটি কারখানা। আর মানুষের চিন্তা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে সমাজ ও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা। এই সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা না বদলালেও মানুষ নিজেকে বদলাতে ও যোগ্যতর করে গড়ে তুলতে পারে; কিন্তু এটা খুব কম মানুষের ক্ষেত্রেই হয়। হয়তো হাজারে/লাখে একজন মানুষ তা পারে। গড়পড়তা মানুষরা তা পারে না; কিন্তু আমরা যদি এমন একটা সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই যে সমাজ গড়পড়তা মানুষকে মেশিনের মতো বদলে দেবে তাদের নৈতিক মান, শিক্ষাদীক্ষা, লাইফ-স্টাইল ও মনোজগত্ তৈরি করবে সেই রকম একটা সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে যারা সমাজকে পরিচালনা ও নির্মাণ করেন, আইনকানুন যারা প্রণয়ন করেন তাদের পলিসির ওপর নির্ভর করে।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বিলিয়ার অনারারি ডাইরেক্টর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রওশন আরা ও মো. নাজমুজ্জামান ভুঁইয়া।
