তীর রক্ষা বাঁধে ধস, বালু ব্যবসায়ীকে দায়ী করলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৩, ১৯:৩৫

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর তীর রক্ষা স্থায়ী বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার এলাকা ধসে গেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর ও এমপি ডাঙ্গী এলাকায় পদ্মা নদীর স্থায়ী বাঁধে এ ধস দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বাঁধ ঘেঁষে বালুর খোলা তৈরি করে প্রতিনিয়ত বাল্কহেড থেকে বালু আনলোড করায় এ ধস দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

গত সোমবার (৬ নভেম্বর) সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থায়ী বাঁধের কয়েকটি স্থানে পাথরের বোল্ডার ধসে নদীতে পড়ে গেছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো বাঁধ। 

এ ব্যাপারে চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাউছার বলেন, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২২ সালে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্থায়ী বাঁধ নির্মিত হয়েছে। এই বাঁধ না হলে এতদিনে অস্তিত্ব সংকটে পড়তো চরভদ্রাসন উপজেলা। অবিলম্বে বাঁধ এলাকায় অসাধু ব্যবসায়ীদের বালু লোড-আনলোড বন্ধ করা না গেলে এই উন্নয়নমূলক কাজ ভেস্তে যাবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনাজ পারভীন বীথি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকা সরজমিনে ঘুরে বালু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দুই বছর না যেতেই বাঁধ ধসের কারণ ও সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, চরভদ্রাসনে নদীর তীররক্ষা স্থায়ী বাঁধ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী বালুর ব্যবসা করছে। বাল্কহেড থেকে বালু আনলোডের পর প্রচুর পানি নদীর তীরে জমাট বাধে। এই পানির কারণে স্থায়ী বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার জায়গা ধসে গেছে। ইতিমধ্যে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের বালু আনলোড করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাছাড়া আগামী বর্ষা মৌসুম আসার আগেই বাঁধের ধসে যাওয়া অংশ সংস্কার করা হবে।

ইত্তেফাক/পিও