সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

অযত্ন-অবহেলায় গণকবর

কেরানীগঞ্জ স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির দাবি

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ০১:৩০

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার তারানগর ইউনিয়নের ঘাটারচর এলাকায় ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর ফয়েজ রাজাকারের সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এলাকার শতাধিক লোক মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার অপরাধের তাদের নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার পর ঘাটারচর সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পাশে মাটিচাপা দেয়। দেশ স্বাধীনের পর তারানগরের ঘাটারচর গণকবরে এলাকাবাসী উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর শহিদদের স্মরণ করেন। স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও গণকবর সংরক্ষণ করে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার বিগত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ঐ গণকবর সংরক্ষণ করে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেনি। বছরের ১১ মাস ময়লা আবর্জনায় ঢাকা পড়ে থাকে ঐ গণকবর। অবিলম্বে গণকবর সংরক্ষণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

এলাকাবাসী জানায়, ২৫ নভেম্বর ঘাটারচরে যথাযোগ্য মর্যাদা তারানগর গণহত্যা দিবস পালন করা হয়। ২৫ নভেম্বর ফয়েজ রাজাকার ঘাটারচর এলাকায় ভাওয়াল রাজ স্টেটের দেওয়া প্রাইমারি স্কুল মাঠসহ দুই একর জমি আত্মসাৎ ও ভোগদখল করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে ঘাটারচর, খানবাড়ী, মনোহরিয়া, হিজলা, কাসিমালতা চণ্ডীপুর, ভাওয়াল, কাঠালতলী, গুইটা, নিশানবাড়ী এলাকার প্রভাবশালীদের ধরে গণহত্যা চালায়। তারপর গ্রামের ২০০ বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় পাকিস্তানি সেনারা প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাদের সহায়তা করে রাজাকার আলবদর আলশামসের সদস্যরা। ১৯৯৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য শতাধিক শহিদের মধ্যে মীর জহির উদ্দিন ও মীর সালাহ উদ্দিনসহ ৪২ জনের নাম সংগ্রহ করে তালিকা শ্বেতপাথরে লিখে স্থাপন করেন। তারপর থেকেই অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে এই গণকবর।

ইত্তেফাক/এমএএম