বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ইউএনও পিংকি সাহার বদলির খবরে অশ্রুসিক্ত কালকিনিবাসী

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৩, ২১:৫৬

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিংকি সাহা গত ২৯ মে ২০২২ সালে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে এসে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মন জয় করে গেলেন। তার বদলির খবর শুনে অনেকেই অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে কালকিনির সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমির উদ্যোগে বিদ্যালয় হলরুমে পিংকি সাহার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনিও ছিলেন অশ্রুসিক্ত। 

কালকিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাইসুর রহমান বলেন, ইউএনও পিংকি সাহা স্যার যোগদান করেই তার মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কালকিনি উপজেলাবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। যখনি কোথাও কোনো সংকট দেখেছেন তিনি ছুটে গেছেন। পাশে দাঁড়িয়েছেন সবার বিপদ-আপদে। প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তি ছাড়াও কালকিনি উপজেলার সাধারণ মানুষদের আস্থার জায়গা ছিল ইউএনও পিংকি সাহা স্যার। 

কালকিনি উপজেলার এক ভ্যানচালক বলেন, ইউএনও ম্যাডাম কালকিনিতে যোগদান করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরগুলোতে ঘুষ দুর্নীতি মুক্ত রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। আমার চোখে তিনি একজন সফল ইউএনও । 

স্থানীয় এক সংবাদকর্মী বলেন, এমন মানবিক গুণসম্পন্ন ইউএনওর কথা ভোলা যায় না। তার সততা, কর্মনিষ্ঠায় আমি মুগ্ধ। তার মতো ইউএনও যদি প্রতিটি উপজেলায় থাকতো তাহলে মানুষ অতি সহজে সেবা পেত।

বিদায়ী কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিংকি সাহা বলেন, কালকিনি উপজেলায় যে কাজ করেছি তা সবই সম্ভব হয়েছে এলাকার মানুষ ও সহকর্মীদের সহায়তায়।

তিনি জানান, সাবেক মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. রহিমা খাতুন স্যার এবং বর্তমান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান স্যারের দিক নির্দেশনা তাকে উদ্দীপ্ত করেছে। তিনি সাবেক ও বর্তমান জেলা প্রশাসক স্যারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। 

তিনি বলেন, যে কাজটি করেছি আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে করার চেষ্টা করেছি। বদলি তো চাকরিরই অংশ। তবে কালকিনিবাসীর মন জয় করতে পেরেছি এটাই বড় পাওয়া। 

এইদিকে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিংকি সাহা পদোন্নতি পেয়ে চলে যাচ্ছেন এ খবর শুনে ইউএনওর কার্যালয়ে বসে মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল মুছতে দেখা গেছে এক বীরমুক্তিযোদ্ধাকে। শুধু বীরমুক্তিযোদ্ধানয় উপস্থিত বেশিরভাগ মানুষের চোখেই ছিল জল। আবেগ থামাতে না পেরে কেঁদে ফেলেন অনেকেই। তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশ।

ইত্তেফাক/পিও