বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রেমিকাকে ধর্ষণ ও ১১১ বার কোপানো প্রেমিককে মুক্তি দিলেন পুতিন

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৩, ২০:৪২

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর একজন দোষী সাব্যস্ত খুনিকে ক্ষমা করেছেন। ভ্লাদিস্লাভ কানিউস নামক ওই খুনী তার প্রাক্তন প্রেমিকা ভেরা পেখতেলেভাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার জন্য ১৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। কিন্তু সে মাত্র এক বছরের কম সময় জেলে কাটিয়েছে।

দ্য সান অনুসারে, কানিউস তার প্রেমিকাকে ১১১ বার ছুরিকাঘাত করেছিল এবং তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে তাকে সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছিল। তারপর সে তাকে লোহার তার দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা সাতবার পুলিশকে ফোন করলেও তাদের সাড়া মেলেনি।

ভেরা পেখতেলেভার মা ওকসানা যখন সামরিক ইউনিফর্মে অস্ত্রধারী কানিউসের ছবি খুঁজে পান এরপর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। শোকার্ত মা বিলাপ করে বলেছিলেন, ‘এটা আমার ওপরে একটা আঘাত। আমার সন্তান তার কবরে পচে যাবে এবং আমি সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছি- আমার জীবন, আমার আশা।’

নারী অধিকার কর্মী অ্যালিওনা পপোভা বুধবার বলেছেন, কারা কর্তৃপক্ষ কানিউসের ইউক্রেন সীমান্তবর্তী দক্ষিণ রাশিয়ার রোস্তভে স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তিনি ৩ নভেম্বর তারিখে রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিসের একটি চিঠি শেয়ার করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, কানিউসকে ক্ষমা করা হয়েছে এবং ২৭ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির ডিক্রির মাধ্যমে তার অপরাধ ক্ষমা করা হয়েছে।

ক্ষমা করে তাকে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ খবরে নিহতের মা বলেন, ‘একজন নিষ্ঠুর খুনিকে অস্ত্র দেওয়া যায় কী করে? কেন তাকে ফ্রন্টে পাঠানো হয়েছে—রাশিয়াকে রক্ষা করতে? সে নোংরা, সে কোনো মানুষ না।’

এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য পাঠানো রাশিয়ান বন্দীরা তাদের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করছে রক্ত দিয়ে। গুরুতর অপরাধসহ যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তারা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অপরাধের জন্য রক্ত দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করছে।

 

ইত্তেফাক/এসএটি