নারী ক্রিকেটেও পুরুষ ম্যানেজারের আধিপত্য

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:১৬

নারী ফুটবল দলে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ ম্যানেজার দায়িত্ব পালন করছেন। কেন পুরুষ ম্যানেজার নারী দলের দায়িত্বে থাকবেন তা নিয়ে বহুবার কথা উঠলেও বাফুফে সেদিকে কান দেয়নি কখনো। নারী ফুটবল দলের এতো সব ঘটনা ঘটে গেছে সেখানে দেখা যায়নি ম্যানেজারকে। যখনই দল বিদেশে যাবে, তখনই ম্যানেজার হাজির। এই পদ অনেকটাই স্থায়ী হয়ে গেছে। নারী সাবেক ফুটবলার থাকলেও তারা সুযোগ পান না। নারী ফুটবল দলের পুরুষ ম্যানেজারের মতো নারী ক্রিকেট দলেও বার বার পুরুষ ম্যানেজার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের ম্যানেজার করা হয়েছে ফাইয়াজ নামের একজনকে। তার হাতে দল দিয়ে বাংলাদেশকে পাঠানো হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। তিন ওয়ানডে এবং তিন টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে রওনা হবে বাংলাদেশ দল। সাবেক ক্রিকেটার মঞ্জু নারী দলের দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনিও ম্যানেজার ছিলেন। তৌহিদ ছিলেন ম্যানেজার। এবার ফাইয়াজ ম্যানেজার হয়েছেন।

বিসিবির নারী দলের চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরি নাদেল জানিয়েছেন, আমরা অনেকেই উন্নত বিশ্বের কথা বলি। যদি উন্নত বিশ্বের কথা বলি তাহলে দেখবেন সেখানেও পরুষ ম্যানেজার আছে।’ তিনি বলেন, ‘প্লেয়ারদের বাইরে দুই জন নারী থাকেন যার টেককেয়ার করেন।’

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনা ঠিক আছে, একজন অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ ম্যানেজার যতটা সহজে নারী দলের সঙ্গে কাজ করতে পারেন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ততটা সহজ হয় না। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ফাহিমা খাতুন নামের একজন ক্রিকেটারকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। সেখানে পুরুষ কর্মকর্তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নারী কর্মকর্তা ছিলেন ফিরোজা করিম নেলী। তিনি নিজের অবস্থান ভুলে গিয়ে হাসপাতালে ছুটে গেলেন। সারা রাত হাসপাতালে ফাহিমা খাতুনের পাশে ছিলেন। জ্বরে কাতরাচ্ছিলেন ফাহিমা। তার মাথা থেকে শুরু করে পুরো শরীর ব্যথা। বেডের পাশে দাঁড়িয়ে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ায় ক্রিকেটার ফাহিমা আরাম বোধ করেছিলেন। একজন নারীর পাশে এভাবে সহজে সেবা করা যায়। যেটা পুরুষদের পক্ষে সম্ভব হয় না। কিন্তু বিসিবি নারী দলের অফিসিয়ার তালিকায় নারী কর্মকর্তারা নাম উঠছে না। ফুটবলের মতো ঘুরে ফিরে পরুষরাই প্রাধান্য বিস্তার করে যাচ্ছে নারী জাতীয় ক্রিকেট দলে।

ইত্তেফাক/এসকে