বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

পলি জমে ভরাট হচ্ছে ভৈরব নদ

নওয়াপাড়া নদীবন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৪১

দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম নওয়াপাড়া বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই শঙ্কার কারণ ভৈরব নদ। নদের তলদেশে পলি জমে ভরাট হয়ে আসছে। দুই তীরেই চর জাগতে শুরু করেছে। অব্যাহত দখল ও দূষণ, অপরিকল্পিত ড্রেজিং, অপরিকল্পিত ঘাট নির্মাণে থমকে যাচ্ছে নদের স্বাভাবিক স্রোতধারা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, অচিরেই পায়ে হেঁটে পার হওয়া যাবে নওয়াপাড়ার ভৈরব নদ। তেমনটি ঘটলে অকার্যকর হয়ে পড়বে নোয়াপাড়া নদীবন্দর। বেকার হয়ে পড়বেন ৪০ হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক। পথে বসবে শত শত ব্যবসায়ী। কেবল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ও ব্যবসায়ী নয়, পরোক্ষভাবে নদীবন্দরের সঙ্গে যুক্ত মোটরশ্রমিক ও ব্রোকার ইউনিয়নের শ্রমিকেরাও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এসব আশঙ্কা থেকে নদ বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা সঠিকভাবে নদী খনন ও গাইড ওয়াল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নওয়াপাড়া নদীবন্দরের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অর্ধকিলোমিটার জুড়ে নদীর দুই-তৃতীয়াংশে চর জমে ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া নদীবন্দরের নওয়াপাড়া জুট মিলসংলগ্ন এলাকা, বেঙ্গল খেয়াঘাট থেকে নওয়াপাড়া গ্লোবঘাট, তালতলা ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অধিক পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে নদীতে ছোট-বড় কার্গো চলাচলে চরম বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে।

বিআইডব্লিটিএ সূত্র জানায়, গত ২০২১ সালের ২৪ জুলাই থেকে বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল (সংস্কার) বিভাগের আওতায় ভৈরব নদ সংস্কার তথা ড্রেজিং শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ড্রেজিংয়ে বন্দরের তেমন কোনো উপকার হয়নি। নওয়াপাড়া হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফাল্গুন মন্ডল বলেন, ভৈরব নদ ঘিরে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন, মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও ব্রোকার ইউনিয়নের ৪০ হাজারের অধিক শ্রমিক ও তাদের পরিবার প্রত্যক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। রয়েছেন নদনির্ভর শত শত ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ এই বন্দরের ক্ষেত্রে বরাবরই চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

একই বিষয়ে কথা বলার সময় মেসার্স করিম ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, খনন যদি বন্দরের উপযোগী করে করা না হয়, তাহলে এই মোকামে ব্যবসা হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করি। নওয়াপাড়া সার ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক শাহ মুকিত জিলানী বলেন, ড্রেজার আছে; কিন্তু তারা যে কী করে তা সার ব্যবসায়ী সমিতির নলেজে নেই। ভৈরব ব্রিজের স্থানে অনেক সমস্যা। ঐ স্থানে ড্রেজিং করা হলেও পরে আবার পলি পড়ে। নওয়াপাড়া কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রবিন অধিকারী ব্যাচা জানান, এই মোকামে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য নিয়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ ছোট-বড় জাহাজ আসে। নদে সার, গম, ভুট্টা, সিমেন্ট, ভুসি মাল ও কয়লা নিয়ে জাহাজ নোঙর করে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যবসার মোকাম এই বন্দর। পলি পড়ে দিনে দিনে নদ ছোট হয়ে যাচ্ছে। ঠিকমতো ড্রেজিং না হওয়ায় এই বন্দরের ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যপারে নওয়াপাড়া নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক মোহা. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘মূল চ্যানেলে জাহাজ চলাচলে জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। আধুনিক নৌবন্দর স্থাপন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটা ব্যস্তবায়িত হলে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হবে। আমরা অভিযান চালিয়ে অনেক ঘাট দখলমুক্ত করেছি।’

ইত্তেফাক/এসকে