পাঁচ ফুট জলোচ্ছ্বাস ও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা

সাগরে গভীর নিম্নচাপ, আঘাত হানতে পারে কাল

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৪০

কার্তিকের শেষ দিনে গতকাল পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে একটি নিম্নচাপের। চোখ রাঙাচ্ছে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’। আজ বৃহস্পতিবার এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ নভেম্বর মাসে এটাই হতে পারে শেষ ঘূর্ণিঝড়। এটি আগামীকাল শুক্রবার দুপুরে পর থেকে ১৮ নভেম্বর শনিবার ভোর ৬টার মধ্যে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের স্থলভাগে উঠে আসতে পারে। তখন বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় দমকা হাওয়াসহ ৬০-৮০ কিলোমিটার। সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা হতে পারে তিন থেকে পাঁচ ফুটের বেশি।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গতকাল বুধবার নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। যার ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জাপানের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্রমালা বিশ্লেষণ করে বলেছেন, নিম্নচাপটি আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম দিকে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের উপকূল ঘেঁষে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। আজ দুপুরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। এরপর জেট-স্ট্রিমের প্রভাবে আজ মধ্যরাতের পর গভীর নিম্নচাপটি দিক পরিবর্তন করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও খুলনা বরিশালের উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়া শুরু করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ৭ নভেম্বর দুপুরে পর থেকে ১৮ নভেম্বর ভোর ৬টার মধ্যে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের স্থলভাগে প্রবেশ করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তখন বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় দমকা হাওয়াসহ ৬০-৮০ কিলোমিটার। জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাব্য উচ্চতা তিন থেকে পাঁচ ফুটের বেশি। ১৯ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য পরিমাণ-খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগে ২০০-৩০০ মিলিমিটার। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ১৫০-২০০ মিলিমিটার, রাজশাহী-ময়মনসিংহ ৫০-১০০ মিলিমিটার।

গতকাল আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা বন্দর থেকে ৯১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৯০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা বলেন, এটিই যদি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় তবে সুন্দরবনের পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

শাহানাজ সুলতানা বলেন, নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মিধিলি’। এটি মালদ্বীপের দেওয়া নাম। নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসকে