ফেভারিট হিসেবে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যায় ১৯৯২ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল পাকিস্তান। শুরুটাও করে সেভাবেই। তবে আসরের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে হারের পর থেকেই যেন নিজেদের হারিয়ে খুঁজতে থাকেন বাবর আজমরা। বিশ্বকাপে প্রথম পর্বের ৯টি ম্যাচ খেলে ৪ জয় ও ৫ হারে পয়েন্ট টেবিলের ৫ নম্বরে থেকে বিশ্বকাপ আসর থেকে বিদায় নেয় পাকিস্তান। বিশ্বকাপে দলের এমন ডরাডুবির জন্য অনেকে দায়ী করে পাকিস্তানি অধিনায়ক বাবর আজমকে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন তোলে তার অধিনায়কত্ব নিয়ে। তবে দেশে পাকিস্তানের নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সড়ে দাঁড়ালেন বাবর।
গতকাল বুধবার পাকিস্তান দলের সব ফরম্যাট থেকে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন বাবর আজম। এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে সেই মুহূর্তকে মনে করি, যখন আমাকে ২০১৯ সালে পিসিবি থেকে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করেছিল। গত চার বছরে আমার মাঠে ও মাঠের বাইরের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। এ সময় আমি আন্তরিকভাবে এবং আবেগের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছি। সাদা বলের ফরম্যাটে ১ নম্বরে পৌঁছানো ছিল আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি, যা কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। কিন্তু আমি এই যাত্রায় তাদের অটল সমর্থনের জন্য আবেগপ্রবণ, সেই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।’
এ সময় নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে এই পাকিস্তানি ব্যাটার বলেন, ‘আজ আমি সব ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকে পাকিস্তানের অধিনায়কের পদ থেকে সরে যাচ্ছি। এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু আমি মনে করি এই সিদ্ধান্তের জন্য এটি সঠিক সময়। অধিনায়কত্ব ছাড়লেও খেলোয়াড় হিসেবে আমি পাকিস্তানের হয়ে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলাই চালিয়ে যাব। আমি নতুন অধিনায়ক ও দলকে আমার অভিজ্ঞতা ও আত্মনিবেদন দিয়ে সহযোগিতা করে যাব। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে, অধিনায়কের মতো একটি গুরুদায়িত্ব পালনে এত দিন আমার প্রতি আস্থা রাখার জন্য।’
এদিকে গতকাল বাবর আজমের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এক বিবৃতিতে পকিস্তান নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেছে। সেই বিবৃতিতে দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য আলাদা অধিনায়ক নির্বাচন করে পিসিবি। আগে থেকে গুঞ্জন ছিল, পাকিস্তানের সাদা বলের ক্রিকেটের নতুন অধিনায়ক হবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। পিসিবির বিবৃতিতে সেই গুঞ্জনই সত্যি হয়েছে। এবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। আর টেস্ট ক্রিকেটকে নেতৃত্ব দেবেন শান মাসুদ। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব কার কাঁধে উঠবে, সে বিষয়ে এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি সংস্থাটি।
