এবার রোহিতদের বিরুদ্ধে টস জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:০৫

চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপে অপ্রতিরোধ্য স্বাগতিক ভারত। তাদের বিরুদ্ধে কেউই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না। আসরে এখন পর্যন্ত ১০টি ম্যাচ খেলে সব কটিতেই জয় তুলে নিয়ে এক যুগ পর টুর্নামেন্টটিতে ফাইনাল খেলার টিকিট কেটেছেন রোহিত শর্মারা। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলা ম্যাচটি নিয়ে যেন বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না স্বাগতিকদের।

এই ম্যাচে খেলতে নামার আগে ভারতের বিরুদ্ধে আনা হয় পিচ পরিবর্তনের অভিযোগ। এবার সেই ম্যাচ নিয়েই তাদের ওপর আনা হয়েছে টস জালিয়াতির অভিযোগ। আর এই অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার সিকান্দার বখত।

গত বুধবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আসরের প্রথম সেমিফাইনালে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৯৭ রানের পাহাড় সংগ্রহ করে পরে নিউজিল্যান্ডকে ৩২৭ রানে অলআউট করে ৭০ রানের জয় তুলে নেন রোহিত শর্মারা। এদিন ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ফাইনালের তুমুল লড়াইটা সবাই উপভোগ করলেও পাকিস্তানি সাবেক এই পেসার ভালো চোখে দেখেননি ম্যাচটি। তাই তো ম্যাচের পর পাকিস্তানের এক টিভি চ্যানেলে তিনি অভিযোগ করেন, রোহিত শর্মা টস জালিয়াতি করে আগে ব্যাট করেছেন।

পাকিস্তানের এক বিখ্যাত টিভি চ্যানেলে সিকান্দার বলেন, ‘আমি কি সামান্য অপকর্মকেও সমর্থন করতে পারি? টসের সময় রোহিত মুদ্রা একটু দূরে ফেলেন, সেটি প্রতিপক্ষ অধিনায়কের নাগালের বাইরে চলে যায়। নিজের পছন্দ অনুযায়ী মুদ্রার পিঠ উঠেছে কি না, এটা যেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক সেখানে গিয়ে দেখতে না পারেন।’

তার মন্তব্য অনুযায়ী বোঝাই যাচ্ছে, টসের সময় দুই অধিনায়কের সঙ্গে উপস্থিত থাকা অফিশিয়ালরা ভারতীয়দের সুবিধা দেন। আইসিসির আইন অনুসারে, আয়োজক দলের অধিনায়ক হওয়ায় টসের সময় কয়েন ছোড়ার দায়িত্বটা রোহিতের কাঁধেই পড়ে। অর্থাৎ, চাইলেই কয়েন দূরে ফেলার সুযোগ থাকছে ভারতীয় অধিনায়কের।

এদিকে সিকান্দার বখতের এমন মন্তব্যকে যুক্তিহীন বলেছেন তারই দেশের আরেক গতি তারকা আকরাম খান। এজন্য আকরাম লজ্জিত বলেও জানান।

তিনি বলেন, ‘কয়েন কোথায় পড়বে, কেউ ঠিক করে দেয় না। এই অযৌক্তিক কথার জন্য আমি লজ্জিত।’ মঈন খানের বক্তব্য, ‘উনি বেকার কথা বলছেন। এগুলোর কোনো মানে হয় না। সবাই বিভিন্ন পদ্ধতিতে কয়েন ঘোরায় টসের জন্য।’ এছাড়া এমন মন্তব্যের নিন্দা করেন শোয়েব মালিকও। তিনি জানান, ‘এগুলো নিয়ে বেশি আলোচনা করাই উচিত না। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

তবে টসের নিয়ম অনুসারে, স্বাগতিক দলের অধিনায়ক সব সময় কয়েন ওপরের দিকে ছোড়েন। অপর দলের অধিনায়ক হেড বা টেল কল দেন। কয়েনটা মাটিতে পড়ার পর ম্যাচ রেফারি কয়েনটা তুলে জানান টসে কোন দল জিতল। এরপর জয়ী অধিনায়ক জানান, তিনি ব্যাটিং না বোলিং করবেন। এসব ক্ষেত্রে দুই অধিনায়কের পুরো অধিকার রয়েছে কয়েন দেখার। কয়েন মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিনায়কেরা চাইলে গিয়ে দেখতে পারেন কী পড়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা অধিনায়কেরা করেন না, রেফারির সিদ্ধান্তই মেনে নেন তারা।

 

ইত্তেফাক/এএম