গ্রুপ পর্বের ৯ ম্যাচের পর সেমিফাইনাল। টানা ১০ ম্যাচেই জিতে নিজেদের মাটির বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেছে ভারত। দলের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কোচ রাহুল দ্রাবিড়েরও রয়েছে বড় ভূমিকা। ২০২১ সালে ভারতের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর দলকে এক সুতোয় বেঁধে প্রস্তুত করেছেন বিশ্বকাপের জন্য। একাদশ নির্বাচন, দলকে খেলানোর কৌশল-পর্দার আড়ালে থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে করে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ। তো শিষ্যরা পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ফাইনালে উঠায় কোচ দ্রাবিড় নিশ্চিতভাবেই গর্বিত-রোমাঞ্চিত।
তবে রোমাঞ্চ-আনন্দকে এক পাশে সরিয়ে রেখে আপাতত তার ভাবনায় আগামীকালের ফাইনাল। আগামীকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াই। যেখানে ভারতের প্রতিপক্ষ ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। তো ফাইনাল নিয়ে কী ভাবছেন দ্রাবিড়? দলীয় পরিকল্পনা কি, সেটা একমাত্র তারাই জানেন। তবে আহমেদাবাদের ফাইনালের আগে দ্রাবিড়ের মাথায় অন্য একটা ভাবনা পেয়ে বসার কথা। সেটা কি? প্রতিশোধ!
ক্রিকেটার হিসেবে দ্রাবিড় সর্বকালের সেরাদেরই একজন। স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে তার। ১৬৪ টেস্টে ১৩২৮৮ রান ও ৩৪৪ ওয়ানডেতে ১০৮৮৯ রানের মালিক। কিন্তু দ্রাবিড়ের মনে বড় একটা আফসোস হয়ে আছে, ক্রিকেটার হিসেবে কখনোই জেতা হয়নি বিশ্বকাপ। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৩টি বিশ্বকাপে খেলেছেন। ১৯৯৯ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই বয়ে দিয়েছিলেন রান বন্যা। ২০০৩ বিশ্বকাপে খেলেছেন ফাইনালেও। দ্রাবিড়ের মনে বড় ক্ষত হয়ে আছে সেটিই, ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন-রূপে ছুঁতে দেখা হয়নি স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফি। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের সেই ফাইনালে দ্রাবিড়দের ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
২০ বছর পর আবার আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি সেই অস্ট্রেলিয়া। ঘটনাক্রমে দ্রাবিড় এবারও ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০০৩ বিশ্বকাপে ছিলেন দলের ব্যাটিং লাইনআপের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এক হিসেবে এবার আরও বড় ভূমিকায়। দলের প্রধান কোচ। দলকে খেলানোর পরিকল্পনা-কৌশল আসে তার মাথা থেকেই। আগামীকাল অস্ট্রেলিয়াকে বধরে পরিকল্পনাও সাজাবেন তিনিই।
খেলোয়াড়ি জীবনে আজন্ম যে স্বপ্নটা পূরণ করতে পারেননি, সুযোগ এসেছে কোচ হিসেবে সেই স্বপ্নকে হাতের মুঠোয় পুরার। সুযোগ এসেছে ২০ বছর আগের সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার। অবসরে দ্রাবিড়ের অবচেতন মনে এখনো হয়তো ২০০৩ সালের ২৩ মার্চের জোহানেসবার্গের সেই ফাইনালের স্মৃতি ভেসে উঠে। শচীন টেন্ডুলকারের বিস্ময়কর পারফরম্যান্সে চড়ে ভারত দাপটের সঙ্গে ফাইনালে উঠলেও ফাইনালে পাত্তাই পায়নি। ব্যাটিং-বোলিং, দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন হয় ১২৫ রানে ম্যাচ জিতে।
রিকি পন্টিংয়ের ১২১ বলে অপরাজিত ১৪০ রানের ইনিংসে চড়ে ২ উইকেটে ৩৫৯ রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। তত্কালীন সময়ে সংগ্রহটা সত্যিকার অর্থেই পাহাড়সমই ছিল। জবাবে দ্রাবিড়দের ভারত গুঁড়িয়ে যায় মাত্র ২৩৪ রানে। ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সেদিন দ্রাবিড় খেলেছিলেন ৫৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংস। যে ইনিংস খেলার পথেই তিনি বুঝে যান, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন চুরমার হতে যাওয়ার বিষয়টি!
